শিরোনাম :

  • ব্যাংকের তহবিল ব্যয়ে আসছে নতুন নীতিমালা দেশে ফিরেছেন ১২ হাজার ৫৫২ হাজি মক্কায় আরও এক বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু উলভসে হোঁচট খেল ম্যানইউ আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৯ অক্টোবর
মসজিদ আছে, নেই ইমাম মুয়াজ্জিন আর মুসল্লি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
০৯ মে, ২০১৯ ১১:৫৩:২০
প্রিন্টঅ-অ+


মসজিদ আছে কিন্তু নামাজ পড়ার জন্য কোনো মুসল্লি নেই। মুয়াজ্জিন নেই, তাই আযানও হয় না। ইমাম নেই বলে মসজিদ প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হয় না বয়ানের সুমধুর সুর।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী, কাতুলী ও দাইন্যা ইউনিয়নের সংযোগস্থল চর ফতেপুর গ্রামে অবস্থিত ‘এসডিএস বাংলাদেশ’ এনজিও সংস্থার নিজস্ব প্রকল্পের মসজিদ এটি।

সম্প্রতি ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে তিনশ একর জায়গার প্রায় পুরোটাই বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। তবুও এমন ভগ্নদশা আর হাজারো মুসল্লির কলরবকে বুকে ধারণ করে বিরাণভূমিতে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ভগ্নপ্রায় মসজিদটি। মসজিদের ভেতরে এখন চলে জুয়া আর মাদকসেবীদের জমজমাট আড্ডা। স্থানটি দেখভাল করার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকলেও জায়গাটি পরিদর্শন করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না তার। ফলে অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। যে সকল স্থাপনা ছিল তার কিছুই নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় এই খামারে ছিল উন্নত জাতের শতাধিক বিদেশি গাভী। মৎস প্রজননের জন্য তৈরি করা হয় হ্যাচারি, ছিলো দৃষ্টিনন্দন বিনোদন পার্ক। অসংখ্য ফুল ও ফলজ গাছের সমাহার। কিন্তু বর্তমানে ওই স্থানের চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, অবশিষ্ট হিসেবে রয়েছে কিছু কাঁঠাল ও নারিকেল গাছ আর ভঙ্গুর প্রায় মসজিদটি।

অনেকগুলো পুকুর থাকলেও তা মাছ চাষের উপযোগী নেই। পুরো জায়গাটি এখন স্থানীয় লোকদের গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানটির প্রায় মাঝ বরাবর টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদের পাশের ওযুর জন্য তৈরি করা বিশেষ ব্যবস্থাগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।

চারপাশে কেবল জঙলি গাছ আর ঘাস। অথচ এই জায়গাতেই একসময় শতশত কর্মজীবী লোকের কর্মমুখর পরিবেশ ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানকালে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের ৫/৬ জন লোক মসজিদের কাছে আড্ডায় মত্ত। স্থানীয়রা জানালেন, তারা জুয়াড়ি ও মাদকসেবী।

সেখানে গরু চরাচ্ছিলেন চর ফতেপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, খামার ওয়ালারা চলে যাওয়ার পর এই স্থানে যা কিছু ছিল তার সবই চুরি হয়ে গেছে। এখন এই জায়গাতে গরু, ছাগল চরানো হয়। ঝড় বৃষ্টিতে গরু ছাগলের আশ্রয়স্থল হয় মসজিদটি। এখন মাদকসেবী আর জুয়াড়িদের নিরাপদ স্থান এটি।

আলেম ব্যক্তিরা বলেন, একবার মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলে তা কোনোভাবেই ধ্বংস বা ভেঙে ফেলা যাবে না। মসজিদটিকে স্থানান্তরিত করা হলেও জায়গাটি সংরক্ষণ করতে হবে।

মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে উপস্থিত হন ওই জায়গাটির তত্ত্বাবধায়ক মো. আজাহার আলী। তিনি জানান, এই জায়গার মালিক আমার চাচা ইসমাইল হোসেন সিরাজি। নানা উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়ে তিনি এখানে একটি প্রকল্প শুরু করেছিলেন। ২০০২ সালে একটি মহলের রোষাণলে পড়ে সবকিছুই ওলোট পালট হয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে এই মসজিদের টিনের বেড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে যায়। পরে আবার তা মেরামত করা হয়। বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা পুণরুদ্ধারসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে খুব শিগগিরই এখানে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।



আমার বার্তা/০৯ মে ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন