শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তাল খুলনা
খুলনা প্রতিনিধি :
০৯ মে, ২০১৯ ১৭:২০:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


নেই এক ফোটা বৃষ্টি, বৈশাখের তপ্ত রোদ। খুলনা শহরের পিচঢালা পথগুলো রোদে তেতে উঠেছে সকাল থেকেই। তীব্র গরমে রোজা রেখে হাফিয়ে উঠেছে মানুষ। ঠিক এমনই মুহূর্তে পাটকল শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনার শিল্পাঞ্চল।

বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন, গ্র্যাচুয়িটি, প্রভিডেন্ড ফান্ড এবং বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার খুলনায় টানা ৫ম দিনের মতো প্রায় অর্ধ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী সকালে যথারীতি কাজে যোগ না দেয়ায় মিলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

একই দাবিতে বিকেল ৪টা থেকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে তিন ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করছে শ্রমিকরা। অবরোধের পাশাপাশি শ্রমিকরা রাজপথে নামাজ আদায় ও ইফতার করবেন।

খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল, দিঘলিয়া উপজেলায় স্টার জুট মিল, আটরা শিল্প এলাকার আলীম ও ইস্টার্ন এবং যশোরের নওয়াপাড়ায় অবস্থিত যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকেরা এসব কর্মসূচি পালন করছেন।

৫ মে থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। গত বুধবার দুপুরে ঢাকার বিজেএমসির সিবিএ কার্যালয়ে পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ ও নন সিবিএর বৈঠকে ১৩ মে থেকে সারাদেশের পাটকলগুলোতে ধর্মঘট চলাকালে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ এবং রাজপথে ইফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলে গড়ে প্রতিদিন ১০০ মেট্রিকটন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। সেই হিসেবে গত চারদিনে ৩৫০ মেট্রিকটন পাটপণ্য উৎপাদন বঞ্চিত হয়েছে। পাটকল শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে। এতে মিলগুলোর সকল ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, সব মিলে সেটআপের অনুকূলে শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে হঠাৎ করেই গত ৫ মে দুপুর থেকে একে একে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, রমজানেও আমরা রাজপথে থালা-বাসন হাতে ভুখা মিছিল করছি। পথেই নামাজ পড়ছি, ইফতার করছি। কয়েক মাস হয় বাজার কাকে বলে জানে না শ্রমিকরা। ছেলে-মেয়েদের মুখে কোনো ভালো খাবার দিতে পারছি না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫-এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোধসহ বকেয়া মজুরি প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন পাটকল শ্রমিকরা। সর্বশেষ গত ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে একযোগে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং ৪ ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।



আমার বার্তা/০৯ মে ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন