শিরোনাম :

  • ঝিলপাড়ে শুধুই আহাজারি ১ হাজার ৯৪২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন ভিএআর কেড়ে নিলো ম্যানসিটির জয় বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর টানা ১১ জয়ে রেকর্ডে ভাগ বসাল লিভারপুল
হদিস নেই কালা মিয়ার সেই পায়ের, বাড়িছাড়া পরিবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
১১ মে, ২০১৯ ১০:৫৪:৪২
প্রিন্টঅ-অ+


তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের কালা মিয়ার (৪৫) কেটে নেয়া পায়ের। উল্টো ঘটনার মূল অভিযুক্ত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আবুল বাশারের লোকজনের ভয়ে বাড়িছাড়া কালা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।

অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না কালা মিয়ার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন পায়ের ক্ষতস্থান না শুকালে কোমর থেকে নিচে অংশ কেটে ফেলে দিতে হবে। বর্তমানে ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর দিন কাটছে কালা মিয়া ও তার পরিবার। অমানবিক এই নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার।

কালা মিয়ার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা কালা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল বাশারের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত ১৯ এপ্রিল বিকেলে আবুল বাশার ও তার লোকজন কালা মিয়া এবং তার ছেলে বিপ্লব মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রথমে তাদেরকে টেঁটাবিদ্ধ করেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কালা মিয়ার ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত কেটে নেন।

এ সময় কালা মিয়ার ছেলে বিপ্লবের দুই পায়ের রগও কেটে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্দেশে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির পদ থেকে আবুল বাশারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আবুল বাশারকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার। মামলায় এখন পর্যন্ত আবুল বাশারসহ চারজন গ্রেফতার হয়েছেন। মামলাটির তদন্ত কাজ এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে।

এদিকে ঢামেক হাসপাতালে সপ্তাহ খানেক চিকিৎসা নিয়ে রূপসদী গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসার পর আবুল বাশারের লোকজনদের ভয়ে বেশিদিন থাকতে পারেননি সেখানে। দিনের বেলা সবকিছু স্বভাবিক থাকলেও রাতের বেলায় আবুল বাশারের লোকজনদের অপতৎপরতার কারণে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন কালা মিয়া ও তার পরিবার। বর্তমানে ঢাকায় ভাড়া বাসায় মানবেতর দিন কাটছে তাদের।

একমাত্র উপার্জনক্ষম কালা মিয়া বিছানায় পড়ে থাকায় চরম অর্থকষ্টে আছে তার পরিবার। প্রতিদিন ছয় থেকে সাতশ টাকার ওষুধ লাগে কালা মিয়ার। তবে টাকার অভাবে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে পারছেন না তিনি। আর স্বামী-সন্তানের জন্য বাধ্য হয়েই মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করছেন কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার।

সালমা আক্তার মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, রাতের বেলা ছেলেরা বাড়ির সামনে এসে ঘোরাফেরা করে। যদি আবার কিছু করে তাই ভয়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে এসেছি। ঢাকায় আমাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন নাই, একটি বাসা ভাড়া নিয়ে খুব কষ্ট করে থাকছি। সংসারের উপার্জন করার মতো আর কেউ নেই তাই বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ নিয়েছি। প্রতিদিন ছয়-সাতশ টাকার ওষুধ লাগে। যেদিন টাকা যোগাতে পারি সেদিন ওষুধ কিনি। ডাক্তার বলেছে ওষুধ খাওয়ার পর ক্ষত না শুকালে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলে দিতে হবে। স্বামী-সন্তানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, কেটে নেয়া পায়ের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। আসামিদের মধ্যে শামীম যখন গ্রেফতার হয়েছিলেন তখন থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যেখানে পা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল সেখানে এবং আশপাশের জায়গায় তল্লাশি করেও পায়নি। আমাদের কাছে মামলাটি আসার পর আমরাও পা খোঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু পাইনি। আর পা কেটে নেয়ার ঘটনার আগে থেকেই কালা মিয়ার পরিবার ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন বলেও জানান তিনি।



আমার বার্তা/১১ মে ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন