শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
উৎসুক জনতা সরাতে আসলো সেনাবাহিনী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
৩০ মার্চ, ২০১৯ ১০:৩৯:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচা বাজার ও সুপার মার্কেটে আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ভিড় করা উৎসুক জনতা সরাতে আসতে হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। শনিবার ভোরে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার পর মার্কেটের সামনের সড়কে ও মার্কেটের ভেতরে শত শত মানুষ ভিড় করেন। এদের কেউ মোবাইলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করেন কেউবা অযথাই দাঁড়িয়ে থাকেন। এর ফলে ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহের গাড়ি ঢুকতে সমস্যা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর একদল সদস্য বাঁশি বাজিয়ে মার্কেটের সামনে থেকে উৎসুক জনতা সরিয়ে দেন। সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে দেখতে দেখতে উৎসুক জনতা শূন্য হয়ে পড়ে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনের সড়ক।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর হাজার হাজার উৎসুক মানুষ ভবনটির চারদিক থেকে ভিড় করেন। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছিল।

এফআর টাওয়ারের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম সবদিকেই হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করার পাশাপাশি এদের ভিড় একটি অংশকে মোবাইলে সেলফি তুলতে দেখা যায়। কেউ কেউ মোবাইলে আগুনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এর মধ্যেই অল্প সংখ্যক মানুষকে সহায়তা করতে দেখা গেলেও বেশিরভাগই ভিড় জমিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

বনানীর ওই ভয়াবহ আগুনে ২৫ জন নিহত হন।

উৎসুক জনতার ভিড়ে বনানীর উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টির সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এরপরও বনানীর ঘটনার দুই দিনের মাথায় গুলশানের আগুনের পর ঘটনা স্থলে আবারও ভিড় করে উৎসুক জনতা। ফলে বনানীর মতো গুলশানের আগুন নেভাতেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অসুবিধায় পড়তে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উৎসুক মানু্ষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হলেও কেউ শুনছেন না। ফলে আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচা ও সুপার মার্কেটে মূল আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে চারিদিকে অতিরিক্ত ধোয়া সৃষ্টি ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচতে আশেপাশের দোকানিরা তাদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

শনিবার (৩০ মার্চ) ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে মার্কেটের কাঁচাবাজারের পূর্ব পাশে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি একই মার্কেটে আগুন লেগেছিল। সেই সময় ১৬ ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। মার্কেটের নিচতলা ও দোতলা র মোট ৬০৫টি দোকান পুড়ে গিয়েছিল।



আমার বার্তা/৩০ মার্চ ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন