শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
গণপরিবহন সংকট আর বাড়তি ভাড়ায় নাকাল রাজধানীবাসি
সাহেদুজ্জামান সাকিবঃ
০৬ আগস্ট, ২০২২ ২১:২৫:১২
প্রিন্টঅ-অ+

রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে পল্টনে যাবেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাত্তার পাটোয়ারী। আধাঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও উঠতে পারেনি কোনো বাসে। স্বাভাবিকের তুলনায় বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতিটি বাস শুরু থেকেই ছিল পরিপূর্ণ। অন্য দিন যেখানে হেল্পারদের হাঁক-ডাকে রব উঠে যেতো সেখানে আজ কোনো বাসই দাড়াচ্ছে না। দাড়াবে কি করে, আগে থেকেই যে বাদুড়ঝোলা হয়ে আছে যাত্রীরা! 


শনিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে।


রাত ১২টার পর জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। মূলত এই কারণে শনিবার সকাল থেকে রাজধানী জুড়েই গণপরিবহনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রাজধানীর বি‌ভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় অনেক মানুষ বাসের জন্য  দাঁড়িয়ে আছেন। মাঝে মধ্যে দু-একটি বাস এলেও সেগুলো ফাঁকা নেই। ঠেলা‌ঠে‌লি ক‌রে দু-একজন বাসে চড়‌তে পার‌লেও অধিকাংশকেই হতাশ হয়ে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গে‌ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে বাধ‌্য হ‌য়ে হেঁটেই রওনা করেন অনেকে।


মিরপুর থেকে মহাখালী ২০ টাকা ভাড়া হলেও আজকে ৩০ টাকা ভাড়া নিয়েছেন বলে জানান বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ খন্দকার। তিনি বলেন প্রথমে এক ঘণ্টার মতো বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাস পাচ্ছিলাম না, মাঝে মধ্যে দুই একটা বাস আসে কিন্তু সেগুলোতে আগে থেকেই যাত্রীতে ঠাসা থাকছে। প্রতিটি বাসের গেটেই ৬/৭ জন করে মানুষ বাদুর ঝোলা হয়ে থাকছে। ফার্মগেট থেকে দেওয়ান পরিবহনে মহাখালীতে নামা রাসেলও ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা দিয়ে এসেছেন বলে জানান। 


এদিকে সড়‌কে গণপ‌রিবহন ক‌মে যাওয়ার সু‌যো‌গে বাড়তি ভাড়া হাঁক‌ছেন সিএন‌জি চালিত অটো‌রিকশা, রিকশা ও চু‌ক্তি‌তে চলাচলকারী উবার-পাঠাও চালকেরা। গুলশান ১ থেকে মিরপুর যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিয়া রশিদ বলেন, সিএনজি গুলো অন্যান্য দিনের তুলনায় ১৫০-২০০ টাকা বেশি চাচ্ছে, ভাড়ায় চালানো মোটরসাইকেলগুলোও অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। সবাই সুযোগের সৎ ব্যবহার করছে, আমরা সাধারণ যাত্রীরা অসহায়। সাধারণ মানুষের কথা কেউ চিন্তা করে না। 


অন্যদিকে দূরের যাত্রী ছাড়া তুলছেন না রিকশা চালকরা। তারা বলছেন, দূরের ভাড়া বেশি, তাই পরিবহন সংকট থাকাকালীন কাছের যাত্রী না তুলে তার দূরের যাত্রী নিচ্ছেন। বনানী সোসাইটির রিকশা চালক শফিক মিয়া বলেন, সকাল থেকে সড়কে বাস নেই। দলে দলে যাত্রীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু বাস পাচ্ছে না। তাই সবাই রিকশাতেই যাচ্ছে। এ সুযোগে আমরাও দূরের যাত্রী নিচ্ছি, কারণ দূরে ভাড়া বেশি।

আরো পড়ুন