শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
খালেদার সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন চায় দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদ :
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:২৪:৫০
প্রিন্টঅ-অ+


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অপরদিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজা বহাল চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলার আপিল শুনানির যুক্তিতর্কে এ প্রার্থনা করেণ।

পরে আদালত আসামিপক্ষের করা সময় আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ঠিক করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত সময় মঞ্জুর করেনি। এ সময় তারা আদালত থেকে বেরিয়ে যান।

পরে আদালত দুদক ও রাষ্টপক্ষকে যুক্তি উপস্থাপন করতে বললে তারা যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তিতর্কে দুদকের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন চেয়েছি। আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের ৫ বছর সাজা দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও তিনি জানান।

খুরশিদ আলম খান বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার করা আপিলসহ চারটি আবেদনের আজ নিয়ে ২৮ দিনের মত শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ কার্য দিবসে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অতিরিক্ত সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য একটা দরখাস্ত নিয়ে এসেছিল। গতকাল তাদের ওই দরখাস্ত শুনে দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের পরে আদেশ দেবেন বলে আদালত নথিভুক্ত করে রাখেন।

আজকে সকালে তাদের আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন আদালতে এসে বললেন, তাদের সেই দরখাস্তের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য। কেননা তারা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন। তখন আদালত বললেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। এ সময় তারা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় চাইলেন। আদালত সময় আবেদনের বিষয়ে নামঞ্জুর করলে তারা আদালত থেকে বের হয়ে চলে যান।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত যে সাজা দিয়েছে তা সঠিকভাবেই দিয়েছে। ওই সাজা যাতে বহাল থাকে আমি সেই মর্মে আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি।

যেহেতু এই রায়ের বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেছেন দুদক। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করিনি। সেজন্য সাজা বৃদ্ধির ব্যাপারে কোন বক্তব্য রাখার সুযোগ আমার ছিল না।

তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্যে বলেছি, বিদেশ থেকে যে অর্থ এসেছে সে অর্থটা ইয়াতিমদের জন্য এসেছে। সেখানে লেখা ছিল প্রাইমিনিস্টার অরফানেজ ট্রাস্ট। সেই অর্থটা পরবর্তী সময়ে দুইটা এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটা হলো বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও বগুড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট। কাজেই টাকা যে সরকারি টাকা এবং রাষ্ট্রের অর্থ, জনগণের অর্থ এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তারা নিজেরাই তদন্ত কর্মকর্তাকে সাজেশন দিয়েছে বগুড়ার কার্যক্রম ঠিকমতই চলছে। কাজেই একই সোর্স থেকে যে টাকা এসেছে সে টাকা দুই জায়গায় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা একটা জায়গার কথা স্বীকার করে অন্য জায়গায় দেওয়ার কথা অস্বীকার করতে পারেন না। আর এই ধরনের মামলায় যদি প্রসিকিউশন আসামিদের হেফাজতের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে তাহলে আসামিদের দায়িত্ব এটা প্রমাণ করা যে তারা আত্বস্মাত করেনি। যেহেতু টাকাটা প্রধানমন্ত্রীর অরফানেজ ফান্ড থেকে তোলা হয়েছে। এবং পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টকে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে টাকা উধাও হয়েছে। সুতরাং এই আত্মসাতের সাথে যারা যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকেই অপরাধী। নিম্ন আদালত সঠিকভাবেই সাজা দিয়েছে। এই কারনে এ সাজা বহাল থাকে সেটি আমি প্রার্থনা করেছি।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি এ মামলায় খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন এবং জামিনের আবেদন করেন। গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন আদালত। যা পরে আপিল বিভাগও জামিন বহাল রাখেন।



আমার বার্তা/২৩ অক্টোবর ২০১৮/এমবি


আরো পড়ুন