শিরোনাম :

  • ঝিলপাড়ে শুধুই আহাজারি ১ হাজার ৯৪২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন ভিএআর কেড়ে নিলো ম্যানসিটির জয় বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর টানা ১১ জয়ে রেকর্ডে ভাগ বসাল লিভারপুল
এত মামলা, এভাবে চলতে পারে না : প্রধান বিচারপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৪৩:৪২
প্রিন্টঅ-অ+


মামলাজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে এত মামলা যে ফাইল রাখার জায়গা নেই। এক কথায়- ক্রিটিকাল অবস্থা। এভাবে চলতে পারে না। এর সমাধান বের করতে হবে।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এক মামলার শুনানির সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে মামলাজট নিয়ে জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশের উপস্থাপন করা প্রতিবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ডিআইজেডের উপস্থাপন করা সুপ্রিম কোর্টের মামলার নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখে আমি প্রায় বিব্রত। এত মামলা! এভাবে চলতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মামলাজট নিরসন বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সকল বিচারপতিকে নিয়ে বসব। সবাইকে বলব যে, এ অবস্থায় কী করবেন, আপনারা দেখেন।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মামলা বিচারাধীন। ১৯৮২ সালে ছিল মাত্র ২৫ হাজার। আর আগাম জামিনের আবেদনগুলো যদি নিষ্পত্তি না করা হতো তাহলে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরিমাণ ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেত।’

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটি ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশ (জিআইজেড) আয়োজিত দেশের মামলার বিচার সংক্রান্ত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বিচারাধীন মামলার বন্দিদের নিয়ে দেশের কারাগারগুলো পরিপূর্ণ।

প্রধান বিচারপতি বিচারব্যবস্থার বিদ্যমান অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি মামলাজট ও এর সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। আর বিচারাধীন মামলার তুলনায় বিচারকের অপর্যাপ্ততা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রতিদিন মামলাজট বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ লোককে মাত্র ১০ জন বিচারক বিচারিক সেবা দিচ্ছেন।’

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির একটি নিরীক্ষা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলা পারস্পরিক বোঝাপড়া বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সেখানে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয় আদালতে। আর আমাদের দেশে চিত্র ঠিক এর বিপরীত। এ দেশে কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়ে থাকে বোঝাপড়া বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে। আর ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় আদালতে।



আমার বার্তা/২৮ এপ্রিল ২০১৯/জহির

 


আরো পড়ুন