শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
-বিকাশ দেওয়ান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিপিডিসি
দুই কর্মকর্তার অনিয়মে দিশেহারা কাজলার ডিপিডিসি গ্রাহকরা
বিশেষ প্রতিবেদক
১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:৫৮:২৬
প্রিন্টঅ-অ+

বিদ্যুতের সংযোগ পেতে নিয়মানুযায়ী সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মনগড়া বাহানা করে গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানী করে দিতে চান না বিদ্যুতের সংযোগ। আবার গ্রাহক অবৈধ পন্থায় টাকা(ঘুষ) দিলে তাৎক্ষণিক শুরু হয় বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সংযোগ দেয়ার দৌড়ঝাপ। সঠিক কাগজপত্র না থাকলে প্রয়োজনে তৈরী করে নেন। টাকা ছাড়া এখানকার ফাইল নড়ে না। এমনকি বাড়তি টাকা ছাড়া (ঘুষ) ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তারা। এনওসিএস কাজলা ডিভিশনে কর্মরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারেক তুষার এবং এই ডিভিশনের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে মুগদা ডিভিশনে কর্মরত) মো. শফিকুলের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। 


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রবাড়ির কাজলা ডিভিশনে বিদ্যুতের সেবা নিতে যাওয়া সাধারণ গ্রহকগণ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারেক তুষার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুলের (বর্তমানে মুগধা ডিভিশনে) প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পন্থায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। ঘুষ না পেলে মাসের পর মাস তারা ফাইল আটকে রাখেন। এছাড়া অনেক সময় ডিমান্ড নোট স্বাক্ষর ও অনলাইন করাতে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করেন। বাড়তি টাকা ছাড়া (ঘুষ) ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তারা। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ঠিকঠাক জমা দিলেও তারা বলেন লোড নেই, ট্রান্সফর্মার সংস্কার হবে তাই আপাতত হবে না অথবা দেরি হবে এ জাতীয় নানা বাহানা দিতে থাকেন। তাছাড়া প্রায় গ্রাহকের সাথেই তারা অসদাচরণ করেন। তাদের এই অনৈতিক চাহিদার কারণে সাধারণ গ্রাহক ন্যায্য সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ। আর চাহিদামাফিক ঘুষ পেলে এসব বাহানার কিছুই থাকেনা। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও ফাইল পাশ হওয়ার আগেই দিয়ে দেন বিদ্যুতের সংযোগ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাগজপত্র তৈরী করে সংযোগ পাশ করেন। অনেক সময় নির্মানাধীন ভবনেও সংযোগ লাগিয়ে দেন শুধুমাত্র চাহিদামতো টাকা পেলে। আর এই অনৈতিক পন্থায় তাদের বিশ্বস্ত হিসেবে (দালাল) কাজ করছেন জনৈক দিপক।


বিষয়টি এনওসিএস কাজলা ডিভিশনে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ওপেন সিক্রেট। অভিযোগে আরো প্রকাশ, সম্প্রতি মিটার টেম্পারিং হাতেনাতে ধরা পরার পরও বিশাল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের আইনী ব্যাবস্থা নেননি। এভাবে অনৈতিক অর্থ আয়ের মাধ্যমে তারা রাজধানীতে করেছেন আলিশান বাড়ি আর নামে-বেনামে ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমান অর্থ রয়েছে বলে জানা যায়। কাজলা ডিভিশনে কর্মরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারেক তুষার এ বিষয়ে দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, ‘আরো কয়েকজন সাংবাদিক ফোন করেছেন। এমন কোন অভিযোগের কথা আগে শুনিনি। আর অভিযোগকারী কে, তাও জানি না। আমাদের এখন সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে হয়। সুতরাং কাউকে হয়রানি করার অভিযোগ সঠিক নয়।’ অভিযোগ প্রসঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন বর্তমানে মুগদা ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয় আমি কিছু জানিনা। আমিতো কাজলা ডিভিশন থেকে এক মাস পূর্বেই মুগদা ডিভিশনে এসেছি। তাছাড়া এখন ডিপিডিসিতে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কারণ আবেদন করা হয় অনলাইনে। আর এই আবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যায়। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহি করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা সকল গ্রাহকের মন তুষ্ট করতে পারিনা। আর যাদের মনের মতো কাজ হয় না, তারাই এমন ধরনের অভিযোগ করছেন।’


নির্বাহী পরিচালক (এ্যাডমিন এন্ড এইচ.আর) ডিপিডিসি, বিদ্যুৎ ভবন, ঢাকা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের হলে গত বছরের ১৭ অক্টোবর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া যায় মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে অভিযুক্তরা কিছুই জানেননা। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তাদের জানাননি। ফলে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও এর কার্যক্রম নিয়ে এরই মধ্যে নানা বিতর্কের গুঞ্জন উঠেছে। কারণ তদন্ত শুরু হলে অবশ্যই অভিযুক্তরা বিষয়টি জানতেন। ডিপিডিসি’র পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম মোস্তফা আমার বার্তাকে বলেন, এরকম অনেক অভিযোগই আসে আমাদের কাছে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি করে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান দৈনিক আমার বার্তাকে বলেছেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার স্মরণে আসছে না। তাই এ ব্যাপারে কাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং কোন পর্যায়ে আছে তা আমি ফাইল না দেখে বলতে পারব না। তবে অভিযোগ পেলেই আমরা তদন্ত করব। সত্যতা পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন