শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
উত্তরায় এটিএম বুথে ঢুকে ছুরি মেরে ব্যবসায়ী খুন, গ্রেপ্তার ১
নগর প্রতিবেদক, উত্তরা
১২ আগস্ট, ২০২২ ২১:৫৮:০২
প্রিন্টঅ-অ+

রাজধানীর উত্তরায় একটি এটিএম বুথে টাকা তোলার সময় ‘ছিনতাইকারীর’ ছুরির আঘাতে এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘ডাচ বাংলা ব্যাংকের’ বুথে এই হত্যাকাণ্ ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে খুনের পর পালানোর সময় আব্দুস সামাদ (৩৮) নামে ওই ‘ছিনতাইকারীকে’ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন এক নৈশ প্রহরী এবং কয়েকজন পথচারী।


নিহত শরীফ উল্লাহ (৪৪) টাইলসের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন, উত্তরার ১২ নম্বরে জাকিয়া টাইলস গ্যালারি অ্যান্ড স্যানিটারি' নামে তার দোকান আছে। শরিফের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর, পরিবার নিয়ে থাকতেন গাজীপুরে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ৬ /সি সড়কের ২৪ নম্বর প্লটে টাইলসের ব্যবসা করতেন। গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার আওতাধীন দেওড়া এলাকার ১৮৯ শাহজালাল রোডে স্ত্রী রিয়ানা পারভিন পলি এবং দুই ছেলে শাহ নেওয়াজ স্বাধীন (১২) ও সোয়েব মাহমুদকে (৫) নিয়ে বসবাস করতেন ওই ব্যবসায়ী।


উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন,”বুথের টাকা তুলে সেখানেই গোনার সময় ছিনতাকারী ভেতরে ঢুকে শরীফ উল্লাহকে ছুরি মেরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আহত শরীফ বুথের ভেতরে মেঝেতে পড়ে যান।“


সে সময় ভেতরে কিছু হচ্ছে টের পেয়ে বুথের নিরাপত্তা কর্মী শফিয়ার রহমান (৫২) ভেতেরে ঢোকেন এবং ওই সময় সামাদ ছুটে বের হয়ে পালানর চেষ্টা করেন। শফিয়ার এবং কাছকাছি থাকা লোকজনের চিৎকারে কয়েকজন পথচারী এবং নাইট গার্ড এসে সমাদকে ধরে ফেলেন। পরে তারা সামাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।


নিরাপত্তাকর্মী শফিয়ার জানান, ওই ছিনতাইকারী রিক্সা যোগে এসেই বুথের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি বাধা দেন। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সে ঢুকে। পরবর্তীতে ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দেন। এসময় রক্তাক্ত ছুরি হাতে বেরিয়ে ছিনতাইকারী দৌড় দেয়। ছুরি ফেলে সে পালিয়ে যেতে থাকে। পরে এক বাইকার তাকে ধাক্কা দিলে পেছন থেকে ধাওয়া দেয়া আশপাশের নাইটগার্ড ও পথচারীরা মিলে তাকে ধরে ফেলেন। পরে ওই সময়ে টহল পুলিশ এসে আহত ব্যক্তিকে ( শরীফ উল্লাহ) হাসপাতালে নিয়ে যায়।


ওসি জানান, থানার টহল পুলিশের গাড়িতে শরীফকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়া আব্দুস সামাদ পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িতের কথা স্বীকার করে বলেছে যে অভাবের তাড়নায় সে এমনটি ঘটিয়েছে। তবে খুনের ঘটনাটি নিছক ছিনতাই কি না তা খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি।


খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেছেন।


পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে এবং নিহতের কাছে রক্তমাখা আটহাজার টাকাও পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। এছাড়া সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহের ডান পাশের কানের নিচে গলায় ধারালো অস্ত্রের বড় জখম এবং বাম পাশের কানের নিচে দুটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা গেছেন।

আরো পড়ুন