শিরোনাম :

  • ঢাকা-ম্যানচেস্টার-সিলেট-ঢাকা ফ্লাইট ৪ জানুয়ারি থেকে ঘর থেকে কোরিয়ান পপ তারকার লাশ উদ্ধার ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা সিদ্দিক ২০ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে মহাখালীর স্টার সিনেপ্লেক্স অক্সিজেনের সিলিন্ডার ছাড়াই পানির গভীরে ডুবুরি!
এসডিজির ২৬টি সূচক অর্জনে ব্যর্থ হবে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৪২:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে, তাতে ২৬টি ইন্ডিকেটর (সূচক) অর্জন সম্ভব নয়। ১৮টির ইন্ডিকেটর রয়েছে, যেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করতে পারলে অর্জন করা যেতে পারে। বর্তমান অবস্থায় ছয়টি ইন্ডিকেটর বাংলাদেশ পূরণ করতে পারবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের গত চার বছরের কাজের ওপর ভিত্তি করে ‘ফোর ইয়ার্স অব এসডিজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি আজ প্রকাশ করা হয়েছে।

এসডিজির মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা, ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ২৩০টি ইনডিকেটর রয়েছে। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার ৬টি নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তুলে ধরা এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেসব ইন্ডিকেটর বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার, সেগুলোকে সবুজ, যেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ প্রয়োজন সেগুলোকে হলুদ এবং যেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, সেগুলোকে লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এর কোর গ্রুপ মেম্বার রাশেদা কে চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইউএন রেসিডিন্ট কো-অর্ডিনেটর ও রিপ্রেজেন্টেটিভ মিয়া সেপ্পো।

ভালোর দিকে কীভাবে যাওয়া যায়, সেই কাজটা বর্তমান সরকার করছে দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। এ তিনটির মধ্যে আমি একটাই রাখব, তা হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ। এটাকে আমি প্রথম জায়গায় স্থান দেব। স্বাস্থ্যসেবার অভাব, খাবারের অভাব, শিক্ষার অভাব – সবকিছুর মূলেই আমার মনে হয়, দরিদ্রতা।

এসডিজি অর্জনের বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা কোন পর্যায়ে আছি, সে সম্পর্কে ফাহমিদা (সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুন) বলেছেন। কাজ শুরুর আগে তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তৈরির ক্ষেত্রে একজন নাগরিক হিসেবে মনে হয়, আমাদের সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। কোন কোন জায়গায়, কী কী কাজ করতে হবে, আমরা সেই ফিল্ডওয়ার্ক করছি। আমাদের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, বিশাল অর্থের প্রয়োজন, মাথা খারাপ হয়ে যায়। তবে আমাদের আস্থা আছে, আমরা পারব।’

অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে আমরা এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অনেকটা ভালো করছি। সামগ্রিক বিচারে আমরা বেশ কয়েকটা অভীষ্টে ভালো করছি। কিন্তু এখানে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সেসব দিক দিয়ে আমরা যদি সাফল্য অর্জন করতে চাই, তাহলে আরও পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, ব্যক্তি খাতের সংগঠন যারা এ ক্ষেত্রে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থের সঙ্কট। আরেকটা সঙ্কট হলো তথ্যের অভাব। তথ্য না থাকলে আমাদের অগ্রগতি কতটুকু হচ্ছে, সেটা বিবেচনা করতে পারব না। আমি বুঝতে পারব না, আমি কোথায় আছি, আমাকে কতদূর যেতে হবে। সেই তথ্যের ঘাটতিটা পূরণ করতেই হবে। সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে।’

সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর জন্য অর্থ সরবরাহ করতে হবে। তাদের জন্য একটা বিশেষ তহবিল গঠন করে তাদের সুযোগ করে দেয়া। যেসব সংগঠনের অর্থ সঙ্কট রয়েছে, তারা তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নের কাজ করবে। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের আগে জলবায়ু তহবিল গঠন করা হয়েছিল, সেটা অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয়।’



আমার বার্তা/২৭ এপ্রিল ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন