শিরোনাম :

  • অরুণ জেটলি বিরল এক ক্যানসারে ভুগছিলেন কোথায় গিয়ে থামবে আজ নিউজিল্যান্ড! শিশু সায়মা হত্যা : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৬ সেপ্টেম্বরওএসডি হচ্ছেন জামালপুরের সেই ডিসি দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেলো রিয়াল মাদ্রিদ
পুঁজিবাজারে কালো টাকা চায় সিএসই
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৬ জুন, ২০১৯ ১২:৩৪:১২
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ফ্ল্যাট বা জমি কেনা এবং ইকোনমিক জোনের মতো পুঁজিবাজারেও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

একইসঙ্গে শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং গুণগত সম্প্রসারণের জন্য বাজেট প্রস্তাবের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে জানানো প্রস্তাবনাগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার ঢাকাস্থ সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক এ অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় নির্দিষ্ট করে প্রদান সাপেক্ষে বৈধকরণের বিধান রাখা হয়েছে। যা ফ্ল্যাট, জমি কেনা এবং ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করা যাবে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়নি। পাচার রোধ করা ও বিনিয়োগের স্বার্থে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দেয়া সাপেক্ষে পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের জন্য সিএসই যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল তার মধ্যে কোনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।

সিএসই যেসব প্রস্তাবনাগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-

১। তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের বিদ্যমান কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ হলে ভালো কোম্পানিসমূহ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে, যা শেয়ারবাজারকে সমৃদ্ধ করবে এবং স্বচ্ছ কর্পোরেট রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

২। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা হলে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এতে শেয়ারবাজারে গুণগত মানসম্পন্ন শেয়ারের জোগান বাড়বে যা বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনয়নে ভূমিকা পালন করবে।

৩। প্রস্তাবিত বাজেটে এসএমই কোম্পানিসমূহের করমুক্ত আয় সীমার জন্য বার্ষিক লেনদেন ৩৬ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের নতুন প্রবর্তিত এসএমই বোর্ড বাস্তবায়ন, একটি মানসম্মত কর্পোরেট কাঠামো এবং রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর জন্য এসএমই কোম্পানিসমূহকে ৩ বছর শূন্য হার কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব পুনঃব্যক্ত করছি।

৪। ঘোষিত বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আমাদের প্রস্তাবিত সীমা ১ লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য অনুরোধ করছি।

৫ (ক)। দেশের অর্থনীতির আকার এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরির লক্ষ্যে সকল প্রকার বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়কে করমুক্ত রাখা এবং জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়য়ের করমুক্ত সুবিধা ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব করদাতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান করছি।

৫ (খ)। ২০১৩ সালের অর্থ আইন অনুযায়ী ৫৩ বিবিধ ধারা থেকে বন্ড ডিলিট করা হয়। কিন্তু অন্যান্য আইনে সিকিউরিটিজ এর সংজ্ঞায় বন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকায় বন্ড লেনদেনের উপর ০.০৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়। একটি শক্তিশালী এবং পৃথক বন্ড মার্কেট গঠনের লক্ষ্যে স্পষ্টভাবে ওই ধারা থেকে বন্ড লেনদেনেকে অব্যাহতি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

৬। এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ঋণ চুক্তির শর্ত হিসেবে প্রণীত ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সরকারও আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

বর্তমানে সিএসই ক্রমহ্রাসমান হারে আয়কর প্রদান করে, যা এই অর্থবছরে শেষ হবে। এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এর বিধান অনুযায়ী মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের শতকরা ২৫ ভাগ কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রয় করতে হবে। সিএসই এখনও আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ করতে পারেনি। কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রিয়ের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ৫ বছরে জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়া হলে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারী পেতে সহায়ক হবে এবং একইসঙ্গে তুলনামূলক ছোট এক্সচেঞ্জ হিসেবে দেশের শেয়ারবাজারে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

৭। স্টক ব্রোকারদের উৎসে কর কর্তনের হার পুনর্নির্ধারণের জন্য বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এই হার পূর্ববর্তী ০.০৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। অধিকাংশ ব্রোকার হাউজ বর্তমানে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও এ সব ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে ক্রমবর্ধমান হারে কর আদায় আয় করের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্টক ব্রোকারদের উৎসে কর কর্তনের হার ২০০৬ সালে চালুকৃত হারে অর্থাৎ ০.০১৫ শতাংশে পুনর্নির্ধারণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাজেটে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে কিছু প্রস্তাবনার প্রশংসাও করছে সিএসই। যেমন- প্রস্তাবিত বাজেটে রুগ্ন কোম্পানিকে ভালো কোম্পানি কর্তৃক একত্রীকরণ/অধিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি শেয়ারবাজারেরর জন্য একটি ভালো প্রস্তাব; ঘোষিত বাজেটে নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস লভ্যাংশের উপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে রিটেইনড আর্নিংস বা রিজার্ভ যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তবে বাড়তি রিজার্ভের উপর ১৫ শতাংশ হারে করের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা কোম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি; বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য লভ্যাংশ আয়ের দ্বৈত কর তুলে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাজারে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



আমার বার্তা/১৬ জুন ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন