শিরোনাম :

  • আজ শুরু হচ্ছে মহাকালের ‘বাংলা নাট্যোৎসব’ সোনাদিয়ায় শিল্পকারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিক্রিই হলেন না সাকিব-গেইল-মালিঙ্গারা রাজধানীতে আনসার আল ইসলামের চার সদস্য গ্রেফতার কালিদাস কর্মকারের মরদেহে শ্রদ্ধা চারুকলায়
জাবি উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:১৮:৩০
প্রিন্টঅ-অ+


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যকে স্বেচ্ছায় আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এ সময়ের আগে তিনি তার বাসভবনে থেকে রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি কোনো একাডেমিক ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন।

এতে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, এই উপাচার্য নৈতিকভাবে পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত আমারা আল্টিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তবে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এছাড়া আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে আলোচনা শুরু হয়ে চলে সাড়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। প্রশাসনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ।

অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে চার ঘণ্টার অধিক সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেনের মুঠোফোন অকার্যকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগে তিনি আলোচনা সভা বর্জন করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি। তা সত্ত্বেও গতকাল আমার মোবাইল নম্বর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার ঘণ্টা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমি মনে করি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিবাদ স্বরূপ বিষয়টি রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছি এবং আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করিনি।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক। গত ১ মে ছয়টি হলের টেন্ডার আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। এই কাজের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ঈদের আগে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ‘ঈদ সেলামি’ দেয়ার অভিযোগ ওঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে গত ১২ সেপ্টেম্বর আলোচনায় দুটি দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া অপর দাবি ‘তদন্ত কমিটি গঠন’ নিয়ে বুধবার এই আলোচনায় বসে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা।



আমার বার্তা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন