শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
খুবি শিক্ষককে যৌতুক মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদ
০৮ মার্চ, ২০২২ ১১:২৪:১১
প্রিন্টঅ-অ+


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের শিক্ষক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকারকে প্রতিহিংসামূলকভাবে যৌতুক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ মার্চ) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বড় ভাই মধুসুদন স্বর্ণকার।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ সাধন চন্দ্র স্বর্ণকারকে স্ত্রী (পূজা স্বর্ণকার) ও শ্বশুরের (অলোক স্বর্ণকার) লোকেরা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এবং মিথ্যা অজুহাত দিয়ে যৌতুক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। যার কারণে আদালত সাধনকে কারাগারে পাঠায়। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে মামলা হয়েছে সবগুলোই অসত্য, অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যমূলক। শ্বশুরের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

মধুসুদন স্বর্ণকার বলেন, সাধন একটি হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন এবং হিন্দুরা প্রথাগত ভাবেই কিছু উপঢৌকন দিয়ে থাকে। এটি হিন্দু রীতি অনুযায়ী যৌতুক নয়। এখানে উল্লেখ্য, এই মেয়ের সঙ্গে সাধন চন্দ্র স্বর্ণকারের দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের ফলে বিয়ে হয়। পরিবারের অমতে তাকে রেজিস্ট্রি বিয়েতে বাধ্য করে পূজার পরিবার। পরবর্তীতে বিয়েটি পারিবারিক ও ধর্মীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাধন স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় সংসার শুরু করেন। এরপরই স্ত্রী পক্ষের বিভিন্ন ধরনের লোভাতুর কর্মকাÐের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

তিনি বলেন, সাধনের চাকরিকে পুঁজি করে টাকা আদায়ের জন্য জিম্মি করে বিভিন্ন ধরনের নাটক সাজায় পূজার পরিবার। উপরন্তু সাধনের শ্বশুর এলাকায় একজন স্বীকৃত সুদখোর। তিনি সুদের ব্যবসার জন্য সাধনের কাছে ৫ লাখেরও বেশি টাকা দাবি করেন। সাধন তা দিতে অপারগতা জানায়। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে পূজা ও তার বাবা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে।

তিনি আরও বলেন, এরই ধারাবাহকতায় সাধনের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা হয়। গত ৩ জানুয়ারি সাধনের শ্বশুর এক আত্মীয়ের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে মেয়েকে খুলনার বাসা থেকে নিয়ে যায়, যার স্বাক্ষী বাড়ীওয়ালার স্ত্রী। পরবর্তীতে সাধন ৬ জানুয়ারি এলাকায় যায়। ৭ জানুয়ারি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মেম্বার, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পূজাকে আনতে গেলে সে সাধনের সঙ্গে সংসার করতে অসম্মতি জানায় এবং খুলনায় ফিরে আসেনি। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটে যেখানে যৌতুক সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য ছিল না।  

মধুসুদন স্বর্ণকার বলেন, পূজা বরাবরই সাধনের বেতনের সব টাকা নিজ কব্জায় নিয়ে নিত। পাশপাশি সাধনকে  পরিবারের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ না করার জন্য চাপ দিত। সাধন একজন সু-সন্তানের পরিচয় দিয়ে বাবা-মাকে ত্যাগ করতে বাধ্য না হওয়ায় তাকে এ ধরনের মিথ্যা মামলায় পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমাদের বাবা-মা কোনদিন খুলনায় না আসা সত্তে¡ও মিথ্যা মামলায় তাদের ফাঁসানো হয়েছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের আরও ১টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এসব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ মামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকারের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


আরো পড়ুন