শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
ঢাবি হলের ক্যান্টিনে টেস্টি সল্ট স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
১২ মার্চ, ২০২২ ১১:১৯:০৩
প্রিন্টঅ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যান্টিনগুলোতে খাবার রান্নার সময় ব্যবহার করা হচ্ছে টেস্টি সল্ট বা ‘স্নায়ু বিষ’ যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


টেস্টি সল্টের কেমিক্যাল নাম হলো মনো সোডিয়াম গøুটামেট (এমএসজি), যা একটি এল-গøুটামিক এসিডের ডেরিভেটিভ। স্বাদ বাড়ানোর জন্য টেস্টিং সল্ট চাইজিং বিভিন্ন খাবারে মেশানো হয়।


চাইনিজ খাবারে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে হলের ক্যান্টিনের বাইরে ও হলের খাবারের দোকানগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে এই উপাদানটি। মূলত খাবারকে সুস্বাদু করার জন্য টেস্টি সল্ট ব্যবহার করা হয়। এতে খাবার মুখরোচক হলেও নানা ধরনের জটিল রোগ বাসা বাঁধে মানব শরীরে।


টেস্টি সল্ট খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে, এতে মানুষের মস্তিষ্কের নিউরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে পার্কিনসনস্ ডিজিজ ও আলঝাইমারস্ ডিজিজ নামে সড়বায়ুতন্ত্রের মারাত্মক অসুখগুলো আক্রমণ করে। এটা শুধু মস্তিষ্কের নিউরণ বা সড়বায়ুকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্ষান্ত থাকে না। এটি শরীরে হরমোনের তারতম্যও ঘটায়। আর এই সমস্যাটিও কম মারাত্মক নয়।


আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, প্রতিদিন টেস্টি সল্ট ব্যবহারে বমিভাব, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, খাবারে অরুচি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শরীরের অংশ বিশেষের কাঁপুনি, বুকে চাপ অনুভব করা, দুর্বলতা, হাতের তালু ও গলায় জ্বলুনি, নিঃশ্বাস নেয়ার সময় হাঁপানির মতো শব্দ, বুকে কাঁপুনি, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন, শ্বাস নিতে কষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ক্যান্টিনগুলোতে ঘুরে এই উপাদানটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। উপাদানটি খিচুড়ি, পোলাওসহ মাছ ও মাংসের তরকারিতে ব্যবহার করা হয়।


এ বিষয়ে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাঁধুনি বলেন, ‘আমরা তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য হালকা টেস্টি সল্ট ব্যবহার করি। এছাড়াও যখন তরকারিতে হলুদ, লবণ বা মসলার পরিমাণ কমবেশি হয়ে যায় তখন এটা দিয়ে থাকি।’


স¤প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাবির একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ২৮০০-৩০০০ কিলোক্যালরি শক্তি প্রয়োজন যেখানে শিক্ষার্থীরা তিনবেলা খেয়ে দৈনিক ১৮২১ কিলোক্যালরি পাচ্ছেন। রাতে ঠিকমতো না ঘুমানোর অভ্যাস, দৈনন্দিন খাবারে কিলোক্যালরি কম, অন্যদিকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই খাবার খেয়ে রীতিমতো ধুঁকতে হচ্ছে হলের অনেক শিক্ষার্থীকেই।


নিয়মিত টেস্টি সল্ট খাওয়াতে শারীরিক অসুবিধার কথা জানিয়ে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘মাসে দু-একবার টেস্টি সল্ট খাওয়াতে শরীরে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে নিয়মিত খাওয়াতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তো থেকেই যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই, এটিকে যতটুকু সম্ভব এড়িতে যেতে হবে। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা তো জানবে না খাবারে এটা দেয়া হয়েছে কি না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।’

আরো পড়ুন