শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
অবশেষে উন্মুক্ত হলো জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি
রিসাত রহমান, জবি
০৮ আগস্ট, ২০২২ ০৭:০৩:২৮
প্রিন্টঅ-অ+

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর একটি সুখবর পেলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবির ভিত্তিতে রবিবার (৭ আগষ্ট) থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। সেই সাথে বই নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি এখন থেকে প্রতিদিন  সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে । বিষয়টি অফিশিয়ালভাবে ঘোষণা এখনো না আসলেও শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি উন্মুক্ত বলে জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আইনুল ইসলাম। 


তিনি দৈনিক আমার বার্তাকে জানান, এখন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা নিয়মিত শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড দেখিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে পারবে। সাথে তাদের প্রয়োজনীয় সকল বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারবে। তবে ব্যাগ থাকলে তা বাইরে জমা রাখতে হবে। যাদের লাইব্রেরি কার্ড নেই তারা দ্রুত লাইব্রেরি কার্ড করে নিতে পারবে।


সেই সাথে নির্মাণ কাজ শেষে খুলে দেয়া হচ্ছে উন্মুক্ত লাইব্রেরিও। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, উন্মুক্ত লাইব্রেরির কয়েকটি রুম সংস্কারের জন্য বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত লাইব্রেরিতে নিয়মাবলি মেনে সেখানেও পড়াশোনা করতে পারবে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারিক জনাব মোঃ এনামুল হক জানান, যদি কারো লাইব্রেরি কার্ড না থাকে, তাকে ২ ঘন্টার ভিতর বিনা খরচে কার্ড তৈরি করে দেয়া হবে। কার্ড তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি সোমবার ডেস্ক প্রস্তুত থাকবে।


এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ফাঁকা পড়ে থাকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। বিভিন্ন তালবাহানা আর কথা চালাচালি হলেও খোলা হচ্ছিলো না কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। বেশ কয়েকদিন যাবৎ বন্ধ করে রাখা হয় উন্মুক্ত লাইব্রেরির কয়েকটি রুম।


এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উন্মুক্ত লাইব্রেরি খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড.কামালউদ্দীন আহমদ কথা দিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার (৪ আগষ্ট) উন্মুক্ত পাঠাগার খুলে দেয়া হবে। সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। 


কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খুলে দেওয়ায় এবং বই নিয়ে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। 


 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বায়েজিদ বোস্তামি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিজেদের ন্যূনতম অধিকার গুলোর মধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করে নিজেকে প্রস্তুত করাও একটা অধিকার। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সকলের জন্য যেন উন্মুক্ত করে দেয়, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দ মতো বই নিয়ে সেখানে পড়তে পারে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের নিকট অনুরোধ থাকবে, ব্যক্তি, দল, সব কিছুর বাহিরে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার। প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা ও চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও উন্মুক্ত লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে রুম সংখ্যা বাড়ানো সহ উন্মুক্ত লাইব্রেরিকে পৃথকভাবে শুধুমাত্র লাইব্রেরী বানানোর প্রস্তাব রাখছি, যাতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পড়াশোনা করতে পারে।


১৩তম ব্যাচের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর খান বলেন,  দীর্ঘদিনের আবদার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নেওয়ায়  মাননীয় ভিসি স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত জবিয়ানদের আগামী সাফল্যের পথকে প্রশস্ত করবে বলে মনে করি।


জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ব্যবহার নিয়মাবলী:


*গ্রন্থাগারে ল্যাপটপ নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।


*গ্রন্থাগারের আশেপাশে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকা।


* গ্রন্থাগারে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।


*গ্রন্থাগারের ভিতরে খাবার খাওয়া নিষেধ।


* আগ্নেয়াস্ত্র সহ নিষিদ্ধ বস্তু রাখা নিষেধ।


* মােবাইল ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।


* মােবাইল রিংটোন সাইলেন্ট রাখতে হবে।


* গ্রন্থাগারের ভিতরে নিরবতা পালন করতে হবে।

আরো পড়ুন