শিরোনাম :

  • আবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে ২ কোটি ৯০ লাখ শিশুর জন্ম সংঘাতময় এলাকায় : ইউনিসেফ হাতিরঝিলে ভেসে উঠলো মরদেহ পেছাল ব্রাজিল-বাংলাদেশ, অপরিবর্তিত আর্জেন্টিনা কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা
যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাজিদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
২৮ মে, ২০১৯ ১৬:১৫:০৬
প্রিন্টঅ-অ+


গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে গঠিত ইউরোপের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাজ্য। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে এই প্রথম কোনো মুসলিম ব্যক্তি আলোচনায় এসেছেন। তিনি হলেন দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদ।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের পর তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছে তার নাম। সাজিদ জাভিদ যদি থেরেসা মে-এর স্থলাভিষিক্ত হন তবে তিনিই হবেন যুক্তরাঝ্যের প্রথম কোনো মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।

২০১৮ সাজিদ জাভিদ যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর ক্যারিবীয় অভিবাসী শিশুদের ওপর একটি কেলেঙ্কারী ভালোভাবে সামাল দেয়ায় তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

অভিবাসীদের প্রতি নির্মম আচরণের দায় নিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান অ্যাম্বার রাড। অভিবাসী সমস্যা সমাধানের গুরুদায়িত্ব নিয়েই সাজিদ জাভিদের পথচলা শুরু হয়েছিল।

সে সময় (২০১৮) ‘উইন্ডরাশ জেনারেশন’ (১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী)–এর প্রতি নির্মম আচরণ এবং জোরপূর্বক অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিল থেরেসা মের সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সাজিদ জাভিদ সফলতার সঙ্গে এ বিতর্ক সামাল দিয়ে কনজারভেটিভ দলের প্রতি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আস্থা ফিরিয়ে আনেন।

যুক্তরাজ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়টি সরকারের অন্যতম একটি বিভাগ। এ বিভাগের মন্ত্রী হওয়াটা যেমন সম্মানের, তেমনি অভিবাসনে ভারসাম্য রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কারণে এটি বেশ চ্যালেঞ্জেরও।

সাজিদ জাভিদ গত এক বছরে সে দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়া সাজিদ জাভিদ ২০১০ সালে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালে তিনি সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী (কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট সেক্রেটারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

২০১৫ সালে তিনি বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী (বিজনেস ইনোভেশন অ্যান্ড স্কিলস সেক্রেটারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক ব্যাংকার সাজিদ জাভিদের বাবা ১৯৬০ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন। তিনি পেশায় বাসচাকল ছিলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের রচডেল এলাকায় সাজিদ জাভিদের জন্ম হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর সাজিদ জাভিদ উইন্ডরাশ বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘সরকারের অভিবাসন নীতিতে ত্রুটি আছে। উইন্ডরাশ প্রজন্ম যে দুর্ভেঅগের শিকার হয়েছে, তার বাবা, মা কিংবা তিনি নিজেও এ পরিস্থিতির শিকার হতে পারতেন।

পাকিস্তানি অভিবাসী বাস-চালকের সন্তান সাজিদ জাভিদ একটি আধুনিক, বহু-সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক যুক্তরাজ্যের প্রতিচ্ছবি। সাাবেক ব্যাংকার সাজিদ জাভিদ ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন।

অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরো রয়েছেন বরিস জনসন, জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসাম।



আমার বার্তা/২৮ মে ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন