শিরোনাম :

  • হু হু করে বাড়ছে পানি আমার কাছে মনে হয় এই সিরিজে অনেক চ্যালেঞ্জিং : তামিম প্রিয়া সাহার অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সিরিজে শ্রীলঙ্কা দলে ফিরলেন চারজন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
জয় হনুমান বলেও বাঁচতে পারিনি মুসলিম যুবক আনসারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
২৫ জুন, ২০১৯ ১২:৪২:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের বেধড়ক মারপিটে তাবরিজ আনসারি নামের এক মুসলিম যুবকের প্রাণ হারানোর ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সপ্তাহের ভয়াবহ ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ এনে তাবরিজ আনসারিকে বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে বেঁধে নিষ্ঠুরভাবে মারপিট করা হয়। এ সময় হিন্দুত্ববাদীদের স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’, ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয় তাকে। কিন্তু তারপরও মারধর থেকে রেহাই পাননি তাবরিজ।

মারধরে অবচেতন হয়ে পড়ায় তাকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে পুলিশি জিম্মায় চারদিন থাকার পর মারা যান তাবরিজ। এ ঘটনায় বুধবারের মধ্যে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের ও মুখ্য সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিশেষ তদন্ত দলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিহত তাবরিজের এক আত্মীয় বলেন, ঘটনার দিন তাবরিজ আনসারি তার বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করার পর জামশেদপুর থেকে সারাইকেলা-খারসাওয়ান কারসোভা এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়।

আনসারি স্ত্রী শাহিস্তা পারভিন বলেন, ‘মুসলিম হওয়ার কারণে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। আমার আর কেউ নেই, শ্বশুর-শ্বাশুড়িও নেই। আমার স্বামীই ছিল একমাত্র সম্বল। আমি ন্যায় বিচার চাই।’

পুলিশের কাছে অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও তার ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তাবরিজ আনসারির পরিবারের সদস্যরা। এমনকি পুলিশি জিম্মায় থাকার সময় তার সঙ্গে পরিবারের স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। হাসপাতালে নেয়ার অনেক আগেই মারা যান তিনি। চিকিৎসক এবং পুলিশ-সহ সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাবরিজের স্বজনরা।

সারাইকেলা-খারসাওয়ানের পুলিশ সুপার কার্তিক এস বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। তার পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এর ভিত্তিতে আমরা ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছি। এদের মধ্যে পাপ্পু মন্ডল নামে একজন রয়েছেন।

এদিকে, গণপিটুনিতে নিহত তাবরিজের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও তার স্ত্রীকে সরকারি একটি চাকরি দেয়ার দাবি জানিয়েছে রাজ্যের বিরোধীদল কংগ্রেস। ভারতে চলতি বছরে উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণে অন্তত ১১ জন মুসলিমের প্রাণহানি ঘটেছে।

সূত্র : এনডিটিভি।



আমার বার্তা/ ২৫ জুন ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন