শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
আফগান বন্দীশালা থেকে ফিরে
সাংবাদিকের ইসলাম গ্রহণ
আদিবা হায়াত
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:০৭:০৬
প্রিন্টঅ-অ+

নতুন করে আবার তালেবানদের দখলে আফগানিস্তান। সেই ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলির কথা সবাই জানেন। দ্য সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকার চিফ রিপোর্টার হিসেবে আফগানিস্তানে ঢুকেছিলেন তিনি। বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে একদিন সত্যিই তালেবানের হাতে বন্দি হন। এরপরের ঘটনা শিরোনামে পড়েছেন। বন্দিশালা থেকে ফিরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।


১৯৫৮ সালের ২৩ এপ্রিল ডারহামের স্ট্যানলি শহরে ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলির জন্ম। চার্চ অব ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠায় নিজধর্ম পালনে ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। অল্প বয়স থেকে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক। স্থানীয় পত্রিকা স্ট্যানলি নিউজে লেখালেখি করে সাংবাদিকতা শুরু। ডানপন্থী দল রিসপেক্ট পার্টির জাতীয় কাউন্সিলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। লন্ডন কলেজ অব প্রিন্টিং-এ পড়াশোনা করেন। আফগানিস্তানে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করে এসে বন্দি হন তিনি। এরপর মুক্তি পেয়ে অঙ্গীকার পূরণে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর বদলে যেতে শুরু করে রিডলির জীবন।


যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ হামলার পর দ্য সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকার চিফ রিপোর্টার হিসেবে আফগানিস্তানে ঢুকার চেষ্টা করেন। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছিল। তাই রিডলি আফগানিস্তানে যাওয়ার ভিসা পাননি। কিন্তু বিবিসির সাংবাদিক জন কোডি ফিডলার-সিম্পসনের মতো ২৬ সেপ্টেম্বর বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেন। এরপর থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবনপথ। দুই দিন আত্মগোপন থাকার পর একদিন গাধা থেকে নামতে গিয়ে তাঁর গোপন ক্যামেরা তালেবান সদস্যের চোখে পড়ে। অতঃপর গুপ্তচর সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১০দিন তাদের বন্দিশালায় থাকতে হয়।


নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তখন আমার আশংকা ছিল আমাকে যেকোনো সময়ই হত্যা করা হবে। কিন্তু ষষ্ঠদিন একজন বয়োবৃদ্ধ লোক আমার সাক্ষাতে আসেন। তিনি আমাকে লন্ডনে ফিরে ইসলাম গ্রহণের আহŸান জানান। আমি তার এ আহŸান তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করি। কিন্তু আমাকে ছেড়ে দিলে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করব বলে তাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করি। এটা ছিল নিছক মুক্তির একটা পন্থা। এ বন্দীশালা থেকে মুক্তির জন্য আমি নানা পন্থা খুঁজছিলাম। ধোঁকা বা পন্থা যেভাবেই বলি আমার বুদ্ধি কাজে লাগে। মানবিক বিবেচনায় তালেবানের নেতা মোল্লা ওমরের নির্দেশনায় আমাকে ও সঙ্গে থাকা অনেককে তারা মুক্তি দেয়।’ 


কিন্তু মুক্তি পেয়ে আমি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করি। তাছাড়া তখন আমি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেদক ছিলাম। এখানকার ধর্ম, জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে আমার আরো জানার প্রয়োজন ছিল। তাই আমি প্রথমে কুরআন পাঠ শিখি। মুক্তির পর ৩০ মাসে আমি ইসলাম নিয়ে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা করি। আমার ধারণা ছিল, কুরআন পাঠের বিষয়গুলো অ্যাকাডেমিক আলোচনায় থাকবে। কিন্তু না, আমি নতুন আধ্যাত্মিক জগতে বিচরণ শুরু করি। আমি দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে নারী ও পুরুষকে শিক্ষা, সম্পদ ও আচার-ব্যবহার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সমান অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসলাম একটি সার্বজনীন জীবনব্যবস্থা। তবে অনেক মুসলিম ইসলামের বিধি অনুসরণ করে না।’


এভলি রিডলি বলেন, ‘আল্লাহ নারীকে শিশু জন্মদানের বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। ইসলাম নারীর এ বৈশিষ্ট্যকে অত্যন্ত উঁচু সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। তাই হাদিসে জান্নাতকে মায়ের পদতলে বলা হয়েছে। তাছাড়া মায়ের অধিকার বাবার চেয়ে তিন গুণ বেশি বলা হয়েছে। ইসলামে মানুষের সম্মানের মূলভিত্তি হলো তাকওয়া তথা খোদাভীতি। সৌন্দর্য, সম্পদ, শক্তিমত্তা বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে নয়। একজন মুসলিম হিসেবে আমারও শিক্ষার অধিকার আছে। শিক্ষা অর্জনে বের হওয়ার অধিকার আছে।’


 

আরো পড়ুন