শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
কন্যা সন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার
রাকিব হাসান
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৩৮:০২
প্রিন্টঅ-অ+

কন্যা সন্তান জন্মের সংবাদ শুনেই অনেক পিতামাতার মুখ কালো হয়ে যায়। জাহেলি যুগের বর্বর চিন্তা-ভাবনা এখনো কিভাবে মানুষ লালন করতে পারে? কন্যা সন্তান জন্মের পরই পিতামাতার মাথায় যেন সমস্ত রাজ্যের চিন্তা এসে ভর করে। তখন থেকেই কন্যার বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় শুরু। একই পরিবারে পুত্র ও কন্যার  সন্তানের মাঝে  গড়ে ওঠে বৈষম্যের এক বিশাল প্রাচীর। তখন থেকেই শুরু হয় বৈষম্যের শিকার; কখনো খাবারের টেবিলে, আবার কখনো পোশাক পরিচ্ছেদে এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রে। কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া পরিবার দুঃসংবাদ মনে করে কিন্তু  কন্যা সন্তান জন্ম নেয়াকে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুসংবাদ বলেছেন।


আল্লাহ ঘোষণা করেন, “যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তারা মুখ কালো করে এবং মনে অসহ্য কষ্ট ভোগ করতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে মানুষের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে (কন্যা সন্তানকে) থাকতে (বাঁচতে) দেবে, নাকি তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।” (সূরা নাহল : আয়াত ৫৮-৫৯)


উপরোক্ত আয়াতটি জাহেলি যুগের লোকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এখনো এমন লোক অনেক রয়েছে।  কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তারা অপমানবোধ করতো। ফলে সেই কন্যাকে জীবন্ত কবর দিতো। পুত্র সন্তান জন্ম দিতে না পারায় অনেকে স্ত্রীকে মারধর করতো, এমনকি তালাক দিতো। কন্যা সন্তানের প্রতি এই হিংস্র আচরণ বন্ধ করতে ইসলাম কঠোর আদেশ দিয়েছেন। কন্যা সন্তানকে যথাযথ লালন-পালন করলে তার অনেক সুসংবাদ রয়েছে।


মহান আল্লাহ কাউকে কন্যা সন্তান উপহার দিলে তাদের লালন-পালন করা আবশ্যক। কেননা তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হয়ে জান্নাতের উসিলা হবে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে, সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৩)


আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যা সন্তানের লালন-পালনের বিষয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনজন বোন আছে, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেনি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯১২)


কন্যা সন্তান যে আল্লাহর কত বড় নিয়ামত তা সাধারণ ভাষায় কখনো বোঝানো সম্ভব নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার কাছে এক নারী এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়ে। আমার কাছে সে কিছু প্রার্থনা করলো। সে আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই দেখতে পেলো না। আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম। সে তা গ্রহণ করলো এবং তা দুই টুকরো করে তার দুই মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিলো। তা থেকে সে নিজে কিছুই খেলো না। তারপর নারীটি ও তার মেয়ে দুটি উঠে পড়লো এবং চলে গেলো। ইত্যবসরে আমার কাছে নবী (সা.) এলেন। আমি তার কাছে ওই নারীর কথা বললাম। নবী (সা.) বললেন, ‘যাকে কন্যা দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় আর সে তাদের প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮৬২; মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ২৪৬১৬)


কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য অনাদর অবহেলা নয়, তাদের সঙ্গে সর্বোত্তম সুন্দর আচরণ করা সকল পিতামাতার জন্য জরুরি। তারাও ছেলে সন্তানের মতো আদর-স্নেহ ও সুযোগ-সুবিধা পেলে শিক্ষিত হবে। ফলে উন্নত জাতি গঠন করতে তারাও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আজকে কন্যা আগামী দিনের মা হবে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া কখনেই একটি রাষ্ট্র বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।  নেপোলিয়নের প্রখ্যাত উক্তি তুমি আমাকে শিক্ষিত মা  দাও তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব। 


লেখক : শিক্ষার্থী : আল ফিকহ অ্যান্ড লিগাল স্টাডিজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


আমার বার্তা/ সি এইচ কে


 

আরো পড়ুন