শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ইয়াছিন নিজামী ইয়ামিন
মাতৃভাষায় দ্বীনচর্চা
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২০:৪৩:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
জামিআ ইকরা বাংলাদেশ ঢাকার শিক্ষার্থীদের তৈরি করা দেয়ালিকা

পৃথিবীতে যেমন রয়েছে নানা দেশ-মহাদেশ, তেমনি রয়েছে নানা জাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ, ধর্ম ও ভাষা। রয়েছে একই ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন বাচনভঙ্গি ও উচ্চারণভঙ্গি। এগুলো সবই মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরতের নিদর্শন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। (সূরা রূম : আয়াত ২২)


পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কাছে তার দেশ প্রিয়, স্বদেশের ভাষা প্রিয়, তার কৃষ্টি-কালচার প্রিয়। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। সে অনুযায়ী আমাদের নিকটও বাংলা ভাষা সবচেয়ে বেশি প্রিয়। এভাষায় কথা বলে আমরা আনন্দ পাই, তৃপ্তি পাই। এছাড়া আমাদের মাতৃভাষা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। 


রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে আরবি ছিলো সবচেয়ে প্রিয় ভাষা। কেননা এটা তাঁর মাতৃভাষা। তাই তিনি বলেছেন, ‘ আনা আফসাহুল-আরব’।  হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর পর্যন্ত মানবজাতির হেদায়েতের জন্য ১০৪টি আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে। সেগুলো প্রত্যেক জাতি ও কওমের ভাষায় নাযিল হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করেই পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।’ সূরা ইবরাহীম : আয়াত ০৪


পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহনশীলতা সংলাপের ওপর ভিত্তি করে বলা যায় মাতৃভাষার পান্ডিত্য অর্জন ব্যতিরেকে কোন কিছুর সফল প্রচার বা জানানো সম্ভব নয়। আমরা যেমন কুরআন হাদীস ও ফিকহের ভান্ডার থেকে সরাসরি অন্য ভাষার মাধ্যমেই এর অর্থ-মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারি, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এর সরাসরি সঠিক অর্থ-মর্মার্থ জানতে ও উপলব্ধি করতে পারে না। তখন তারা মাতৃভাষার দ্বারস্থ হয়। কিন্তু আমাদের মাতৃভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামী জ্ঞান আহরণের উৎস নিতান্তই অল্প। অথচ এর মাধ্যমে সঠিক জ্ঞান-তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। আমরা যদি আমাদের মাতৃভাষায় পূর্ণ-ব্যুৎপত্তি অর্জনের মাধ্যমে দ্বীনকে সর্বসাধারণের মধ্যে পৌঁছাতে পারি, এবং জানাতে পারি ইসলাম একটি মানবতাবাদী ধর্ম, বিজ্ঞান ও যুক্তিভিত্তিক ধর্ম, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, তাহলে সবার সামনে পরিপূর্ণরূপে ইসলামের সর্বাঙ্গীণ সৌন্দর্যের স্ফূরণ ঘটবে।


মাতৃভাষা লালন ও বিকাশের মাধ্যমে মানব জীবনের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।দেশ-জাতি সর্বোপরি সবার জন্যই সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে আনবে। বাংলা ভাষাকে এদেশের অনেক জ্ঞানীগুণী পাশ্চাত্যের আমদানিকৃত শব্দ ও বিকৃত উচ্চারণে এই ভাষাকে ব্যবহার করে আনন্দ পান। নিজেদের শিক্ষিত হিসেবে জাহির করতে চান। অথচ, বাংলা ভাষা যে প্রাচীন ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম, এবং কতো সমৃদ্ধ, সে জ্ঞানই তাদের নেই। নতুন করে এর সমৃদ্ধি যতটুকু না প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি দরকার এর যথাযথ চর্চা। এজন্য মাতৃভাষার আঙিনায় আমাদের পদচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। কেননা, অযতœ আর অবহেলায় বহু ভাষা আজ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত। তাছাড়া, মাতৃভাষাচর্চা যে কোন সমাজের ঐতিহ্য মেধা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ও লালনের এক সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম। 


সূরা আর রহমানে বিধৃত হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে।’ [সূরা আর-রহমান : ০১—০৪] এদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য অন্যতম মাধ্যম হলো মাতৃভাষায় পারদর্শী হওয়া। সেই হিসেবে এদেশের  প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান তো বটেই, আলেম-ওলামাদেরও মাতৃভাষা ও তার চর্চায় মনোযোগী হওয়া আবশ্যক। ভারতবর্ষের প্রখ্যাত দায়ী, প্রতিতযশা ইসলামিক চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট আরবি সাহিত্যিক সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহিমাহুল্লাহ এদেশে যতবার এসেছেন, ততবার বলে গেছেন, আলেম-ওলামাদের মাতৃভাষায় সর্বোচ্চ পা-িত্য অর্জন করতে। কেননা এর মাধ্যমেই দেশের সর্বত্র দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া ধর্মীয় বোধকে আলোড়িত করা সহজ। 


লেখক : মাদরাসা শিক্ষার্থী


 

আরো পড়ুন