শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
সাখাওয়াত রাহাত
তিলাওয়াত শুনলেই পুণ্য
২১ এপ্রিল, ২০২২ ২০:০৮:০৭
প্রিন্টঅ-অ+

কুরআন তেলাওয়াত শোনার মধ্যেও সওয়াব আছে। কারী সাহেবের সরাসরি তেলাওয়াত অথবা ধারণকৃত তেলাওয়াত, মাধ্যম যাই হোক না কেন। যারা কুরআন তেলাওয়াতে সক্ষম নন, তারা কুরআন শেখার চেষ্টার পাশাপাশি অবসরে কোরআন শুনতে পারেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তুমি তেলাওয়াত করে শোনাও। আমি বললাম, আমি আপনাকে তেলাওয়াত শোনাব? অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: আমি অন্যের তেলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি তাকে সুরা নিসা পড়ে শুনাতে লাগলাম, যখন ৪১নং আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম তিনি বললেন: ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে। তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারি : ৫০৫০, মুসলিম : ১৯০৩)।


কুরআন শরিফ না বুঝে পড়লে প্রতি হরফে কমপক্ষে ১০ নেকি হয়। পড়তে না জানলে কুরআন শরিফ খুলে আল্লাহর পবিত্র কালামের পৃষ্ঠা ও লেখার দিকে মোহাব্বতের সাথে তাকিয়ে থাকলেও সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে নেকি ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। নিষ্ঠা ও ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তাআলা এই নেকি ৭০০ থেকে অগণিত গুণ বৃদ্ধি করে থাকেন।


বর্তমানে অনেকে কুরআন পাঠের চেয়ে কুরআনের অর্থ অনুধাবনে বেশি আগ্রহী। বস্তুত কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির পাঠের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ঝুঁকিমুক্ত নয়। কেননা কুরআন পাঠ করে বহু মানুষ বিভ্রান্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি খোদ কুরআনেই উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘...এর মাধ্যমে তিনি অনেককেই বিভ্রান্ত করেন, আবার বহু লোককে সৎপথে পরিচালিত করেন...।’ (বাকারা : আয়াত ২৬)। একারণেই বহু আলেম সর্বসাধারণের জন্য ব্যক্তিগত অধ্যয়নে কুরআন চর্চায় অনুৎসাহী করে থাকেন। তাই ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের উচিত কোনো আলেমের কাছে অল্প অল্প করে পাঠ করা। এর সুযোগ না থাকলে কোনো নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাব পাঠ করবে এবং যেখানেই কোনো প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দেয়, নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি দ্বারা উত্তর না খুঁজে বিজ্ঞ আলেমের সাহায্য নেবে। (মাআরিফুল কোরআন : ২/৪৮৮)


রমজান মাসে কুরআন পাঠে আমাদের করণীয় : কুরআন এবং রমজান মাসের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, এ সংশ্লিষ্টতা মূলত দুইভাবে। প্রথমত রমজানে রাতদিন কুরআন তেলাওয়াত করা। দ্বিতীয়ত রাতে তারাবির নামাজে কুরআন পড়া বা শোনা। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো,


শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে না জানলে এই রমজানেই কুরআন শেখার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করা।


কুরআন পড়তে জানলে একাধিক খতম হওয়ার মতো বেশি করে তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা। কুরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি এর মর্মবাণী বোঝার জন্য তাফসির ও হাদিস অধ্যয়নসহ হক্কানি আলেমদের সাহচর্য লাভ করা।


প্রতিদিন অন্তত একটি আয়াত হলেও মুখস্থ করার চেষ্টা করা। কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্নাহমাফিক আমল করে কুরআনের সঙ্গে সুমধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা। তারাবির নামাজে কুরআন পড়ে বা শুনে খতম করা। রমজান মাসে গড়ে তোলা অভ্যাস বছরজুড়ে চালু রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।


তাই আসুন! রমজানের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে অযথা বিনষ্ট না করে কাজে লাগাই। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার এ মাসেই শুরু করি কুরআন শেখার অভিযান। সর্বক্ষণ কুরআনের সাথে সম্পর্কিত থেকে নিজেদের জ্যোতির্ময় করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দিন।


 

আরো পড়ুন