শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
'আইন সংশোধন না হলে ট্রাক চলবে না'
আমার বার্ত ডেস্ক :
০৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৩৫:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


সড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাণহানী ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করেছে সরকার। এ আইনের ৩০২ ধারা বাতিল ও জরিমানার হার কমানোসহ বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। পাস হওয়া আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত সব প্রকার পণ্যবাহী ট্রাক, লরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

ঐক্য পরিষদের ডাকে গত শনিবার (৭ অক্টোবর) থেকে সারাদেশে ট্রাক, লরি বন্ধ রয়েছে। এতে শিল্প বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ অচল অবস্থার যৌক্তিক সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে সারা দিয়ে ট্রাক চালকরা গত ৭ অক্টোবর থেকেই বসে আছেন। কেউ ট্রাক বের করলেই রাস্তায় গণধোলাই এর শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাক চালকরা। অনেকেই পেটের দায়ে ট্রাক বের করার চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর গাবতলী ট্রাক স্ট্যান্ডে সরেজমিনে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ট্রাক বের করবেন না।

ট্রাক চালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা তো রাস্তায় ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটাই না। আমাদের ৩০২ ধারায় ফাঁসি দেওয়ার আইন পাস করেছে। আমরা কি অপরাধ করেছি? আর আমরা যদি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে পারি তাহলে কি আর ট্রাক চালাতে আসি?

ট্রাক বন্ধ রাখায় আপনাদের আয় বন্ধ হয়েছে এটা নিয়ে ভাবছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কষ্ট তো হচ্ছেই। কিন্তু যদি সাজা হয় তখন তো পাঁচ বছর জেলেই থাকতে হবে, তখন পরিবার চালাবে কে? এখনকার কষ্টের চাইতে তখন আরও বেশি কষ্ট হবে। তাই দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা গাড়ি চালাবো না।

আরেক চালক ফারুক ও জুয়েল জানান একই কথা। তারা বলেন, আইন করে আমাদের মারার চিন্তা করছে। এ কালো আইন বাতিল করতে হবে।

অবরোধের বিষয়ে আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন গাবতলী বালুঘাট শাখার সভাপতি সাদেক তুফান বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের সাত দফা দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে কোনো চালক গাড়ি চালাবে না। দাবি গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ৩০২ ধারা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বাতিল করতে হবে, সারাদেশের সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে, ট্রাক চালকদের জন্য পৃথক ট্রাক স্ট্যান্ড করতে হবে। সড়ক আইনে জামিনযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ কালো আইন করা হয়েছে পুলিশের বাণিজ্যের জন্য। আমাদের কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবেও দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলেও পুলিশ বলবে দুই লাখ টাকা দাও নইলে ৩০২ ধারায় মামলা করবো। এটা পুরোপুরি পুলিশি বাণিজ্যের জন্যই করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কোনো চালক গাড়ি চালাবে না। আমরাও নিরাপদ সড়ক চাই কিন্তু এভাবে একজন চালককে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর আইন মানতে পারি না। আইজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেকেছেন দেখি কি সমাধান দেন তারপর পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সারাদেশে ট্রাক বন্ধ থাকলেও জেলা-আন্তঃজেলায় গণপরিবহন বাস ঠিকই চলছে। বাস বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. সালাউদ্দিন।

সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া আইন বলা হয়েছে ‘সড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাণহানী ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলা জনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইন পাসের আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘অনেকে বলেন ‘ডেলিভারেটলি কিলিং’ (ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) এর ক্ষেত্রে কি শাস্তি হবে? এটা কি পাঁচ বছরেই থাকবে? আমি পরিস্কার করে দিচ্ছি। কেউ ডেলিভারেটলি কিলিং করলে প্যানাল কোডের ৩০২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কাজেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড  বা ক্যাপিটেল পানিসমেন্ট । তাছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আছে।  সব কিছু মিলিয়ে শাস্তিটা কম না। অপরাধ অনুযায়ীই শাস্তি সেভাবে হবে।’

সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনে সোমবার (৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এরমধ্য দিয়ে সড়ক আইন কার্যকর করতে আর বাধা নেই। এখন থেকে আইনের প্রয়োগ করতে পারবে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী। সূত্র : বাংলানিউজ





আমার বার্তা/০৯ অক্টোবর ২০১৮/এমবি


আরো পড়ুন