শিরোনাম :

  • বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ দেশে ফিরেছেন ১৬৬৭০ হাজি মক্কায় আরও এক বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু প্রথম দিনই মিডিয়া সেশনে আসবেন দুই নতুন কোচ আজ নায়করাজের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী
দেশজুড়ে ডেঙ্গু
বিশেষ প্রতিনিধি :
০৪ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৫২:০২
প্রিন্টঅ-অ+


দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। সরকার ডেঙ্গুকে এখনও ‘মহামারি’ হিসাবে ঘোষনা দেয়নি। তবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে ৬৪ জেলাতেই এবং প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।  রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, রক্তের ব্যাগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞ জনবল সংকট থাকায় ভুল চিকিৎসার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। অনেক হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ব্যবসা করছে-এমন অভিযোগও উঠেছে। অপরদিকে,সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট এবং সামর্থ্যরে সবটুকু ব্যয় করেও সরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না। উল্টো হাসপাতালগুলোতে ব্যবস্থাপনা সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু সংবাদ আসছে। গতকাল শনিবারও দেশের চার জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকায় এক স্কুলছাত্র, নোয়াখালীতে এক রেলকর্মচারী, বরগুনার এক শিশু এবং মাদারীপুরে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ দেশের সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে নগরবাসীর সুরক্ষায় রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণে ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এদিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আমার বার্তা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

ঢাকা: ডেঙ্গুর সঙ্গে তিনদিন লড়াই করে রাইয়ান সরকার নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাইয়ানের খালা হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা। তিনি বলেন, গত ৩১ জুলাই রাইয়ানের জন্মদিন ছিল। সেদিনই তার জ¦র আসে। স্কয়ার হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করানো হলে ফলাফল পজেটিভ আসে। চিকিৎসার জন্য সেখানেই রাইয়ানকে ভর্তি করানো হয়। মুক্তা বলেন, রাইয়ানের অবস্থার দ্রæত অবনতি হতে থাকে। তাকে রক্ত দেওয়া হয়, লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়। তারপরও, গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সে মারা যায়। রাইয়ান সরকার মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। এক বোন ও বাবা-মায়ের সঙ্গে শেখেরটেকের আট নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকত সে।

বরগুনা: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবার দাবি করেছে। মৃত তাওহীদ সদর উপজেলার গৌরচিন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তাওহীদের মৃত্যু হয় বলে তার বাবা জানান। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দিন জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত তাওহীদকে গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার দুপুরে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়। তাওহীদের বাবা সোহরাব বলেন,মঙ্গলবার জ¦র নিয়ে তার ছেলেকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তাকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রক্ত নেওয়া হয়। তবে টেস্টের রেজাল্ট হাতে পাওয়ার আগেই তার ছেলের মৃত্যু হয় বলে জানান সোহরাব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন বলেন, গত পাঁচদিন আগে তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুইজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এরপর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আর কারও মৃত্যু হয়নি। এদিকে বরগুনায় গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে বলে জেলার বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান জানান। তাওহীদের লাশ সকালে লাকুরতলা তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে করা হয়েছে বলে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান।

মাদারীপুর: ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে জেলায় মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে শিবচর উপজেলার ফারুক খান (২২) নামে এক যুবক বুধবার ঢাকা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি গত ২৪ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিবচর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার শারমিন আক্তার (২২) নামের এক তরুণী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে মারা যান। সবশেষ গত শুক্রবার রাতে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিরা আক্তার নামের এক গৃহবধূ মারা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে জায়গা না পেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে ফের কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে রাতে তিনি মারা যান। এনিয়ে গত ১ সপ্তাহে মাদারীপুরে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলো। এ ছাড়া প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ইমরানুর রহমান সনেট বলেন, জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের প্রত্যেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের তরলজাত খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী: ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মোশাররফ হোসেন রাজু নামে এক রেলওয়ে কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি হলে রাতেই মারা যান তিনি। নিহত মোশাররফ হোসেন রাজু সদর উপজেলার ২ নম্বর দাদপুর ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। তিনি কুমিল্লা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মমিনুর রহমান জানান, চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় থাকাকালীন গত কয়েকদিন থেকেই জ¦রে ভুগছিলেন রাজু। এরপর অসুস্থ অবস্থায় নোয়াখালীতে নিজ বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজুকে দ্রুত নোয়াখালী প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান তিনি। এদিকে এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেডিকেলে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৫৪ ডেঙ্গু রোগী : ঢাকা মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন। যা এর আগের কয়েক দিন একই সময়ে দুইশর বেশি ছিলো। গতকাল শনিবার সকালে ডেঙ্গু রোগীর বিষয় নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সংখ্যাটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল ২০০ এর উপরে। যা এখন কমে আসছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আর বাড়েনি, আগের ১১ জনই আছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে মারা গেছেন ১০ জন, আর জুনে একজন নিয়ে মোট ১১ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ঢামেকে সর্বমোট ৬৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। প্রতিদিনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন আক্রান্তরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গু রোগীদের সারাতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান সহকারী পরিচালক ডাক্তার নাসির উদ্দিন।

মা মারা গেলেন ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে মেয়ে : একই সঙ্গে মা ও মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মেয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য মা নাদিরা বেগমকে (৪০) মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

শুক্রবার রাতে এ ঘটনার পর এ নিয়ে মাদারীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন চারজন। এছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৮ রোগী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এসব রোগীদের মধ্যে ২০জন আক্রান্ত হয়েছেন মাদারীপুর থেকে। বাকিরা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরে এসেছেন। এখনও সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ১৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূ নাদিরা বেগমকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা ৩০ জুলাই। কিন্তু শুক্রবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মাদারীপুর নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।মারা যাআোয়ার নাদিরা ও তার মেয়ে খাদিজা আক্তার ৪ দিন আগে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে যান। সেখানে আসন না থাকায় ভর্তি না হয়ে ফিরে আসেন। নাদিরা কালকিনি উপজেলার উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের আলমগীর মোড়লের স্ত্রী।

এছাড়া মাদারীপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৪৮ জনকে জেঙ্গু রোগী হিসাবে শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে বেশিরভাগ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ৯, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন ও কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন আছেন।মাদারীপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার রুবেল হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তার (২২), বুধবার রাতে ঢাকার ইসলামিয়া ব্যাংক হাসপাতালে মারা যান শিবচরের সলুবেপারীরর কান্দি এলাকার বাবু খানের ছেলে ফারুক খান (২২) ও তার আগের দিন মঙ্গলবার কালকিনি উপজেলার পৌরসভার ঠেঙ্গামারা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে জুলহাস বেপারী (৪৫) ঢাকায় মারা গেছেন।

এনিয়ে মাদারীপুর জেলার চার বাসিন্দা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন মারা গেছেন। এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, নাদিরাসহ জেলায় চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মাদারীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী ঢাকা বা অন্য জায়গা থেকে ডেঙ্গুর জীবানু বহন করে এনেছেন। ২০ জন জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।তিনি বলেন, 'এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর ব্যাপারে আলাদা মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণে সরকারিভাবে ১২০টি কিট আছে, যার মধ্যে ৬০টি রাখা হয়েছে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে, বাকিগুলো অন্য সরকারি হাসপাতালে দেয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সর্বাত্মক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ৬১ লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটস আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনটি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আর্মি হাসপাতালের সাহায্য নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেশি থাকায় অনেক রোগী ভর্তি হতে না পারায় এখন ঢাকার বাইরে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ কারণে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগী। কিন্তু মফম্বলে ঢাকার মতো চিকিৎসা সেবা হবে না। তাই ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগ না করে ঢাকায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



আমার বার্তা/০৪ আগস্ট ২০১৯/জহির





 


আরো পড়ুন