শিরোনাম :

  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে পারলে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে : রাষ্ট্রপতি যারা মানবতাবিরোধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদেরও বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
প্রাণ হারালেন আরও ৮ জন বরিশাল মেডিকেলে নতুন ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, চিকিৎসাধীন ১৯৩ জন
ডেঙ্গু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি
আমার বার্তা রিপোর্ট :
০৭ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০৫:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


কোরবানির ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর আরও ছড়াতে পারে বলে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। সম্ভাব্য এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হাজার হাজার রোগী সামলাতে হিমশিম খাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশজুড়ে চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার সর্বসা¤প্রতিক কৌশলসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা জানি, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। কারণ, মানুষ গ্রামে যাবে। আমরা তাদের বাড়ি যাওয়া বাদ দিতে বলতে পারি না। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডেঙ্গু জ্বরের জীবানু এডিস এজিপ্টি প্রধান বাহক মশা প্রধানত শহরে পাওয়া যায়। তবে মানুষের ভ্রমণের কারণে বাংলাদেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব জিনিস কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কেনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা হাসপাতালের জন্য ১০ লাখ ও উপজেলার জন্য ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৪৩৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কেবল শনিবারই হাসপাতালে গেছেন ২০৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যদিও গণমাধ্যমের খবরে মৃত্যুর সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে। ডবিøউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত¡বিদ বি এন নাগপাল গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ফগার মেশিনে রাস্তা বা উন্মুক্ত জায়গায় কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা মারার আশা কেবলই ‘মিথ’। তার বদলে নিজের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং সকাল-সন্ধ্যা অ্যারোসল স্প্রে করুন, কারণ এডিস মশা ওখানেই থাকে। মশা নিয়ে গবেষণায় ৪০ বছর কাটিয়ে দেওয়া বিএন নাগপাল এডিস মশা মারতে ফগিং মেশিনের প্রয়োগ পদ্ধতি নাচক করে দিয়ে বলেন, সবার আগে এ মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার দিকে নজর দিতে হবে। একটি পানির বোতলের ঢাকনা দেখিয়ে তিনি বলেন, মাত্র দুই মিলিলিটার পানি পেলেও এডিস মশা সেখানে বংশ বিস্তার করতে পারে। এডিস মশা পানির উপরিতলে এমনভাবে ডিম ছাড়ে, যাতে সেগুলো বছরজুড়ে টিকে থাকতে পারে। যখন পাত্র ভরে পানি উপচে পড়ে, তখন সেই ডিম থেকে লার্ভা জন্ম নেয়।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত সোমবার রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত আট জনের মৃত্যুর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ঢাকায় দুই নারী ও দুই পুরুষ ও এক শিশু, দিনাজপুরে এক কিশোর এবং রংপুর ও চাঁদপুরে একজন করে শিশু রয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন:

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিন জন মারা গেছেন। তারা হলেন- মনোয়ারা বেগম (৭৫), আমজাদ মÐল (৫২) ও হাবিবুর রহমান (২১)। ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাছির উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে ঢামেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনোয়ারা বেগম। তার স্বামীর নাম আবদুল হাই। তারা ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকতেন। মনোয়ারার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর হাজিগঞ্জের আহমেদপুরে। মনোয়ারার ছেলে মোশাররফ হোসেন জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত ছিলেন। গত ৩ আগস্ট তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থা গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে তিনি মারা যান। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ মন্ডল। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয়ের কেটুয়াধারা গ্রামে। তার ছোট ভাই রাশেদ মন্ডল জানান, ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হলে শুক্রবার তার ভাইকে মানিকগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত সোমবার রাতে ঢামেকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান। আমজাদ মন্ডল কৃষি কাজ করতেন বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুর রহমান (২১) নামে এক যুবক মারা যান। তার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায়। তিনি গত ৩১ জুলাই থেকে ঢামেকে ভর্তি ছিলেন।

এদিকে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসে ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতালি প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাফসা লিপি নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী চার দিন ধরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় গত সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক জসিমউদ্দিন খান জানান। হাফসার স্বামী সর্দার আবদুল সাত্তার তরুণ (৩৬) নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুই সন্তান অলি (১২) ও আয়ানকে (৬) নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে দেশে এসে কলাবাগানে উঠেছিলেন তারা। সাত্তারের বড় বোন ডা. নুরুন্নাহার জানান, ঢাকায় আসার পরপরই জ¦রে পড়েন তার ভাই। ওর অসুস্থতার মধ্যেই হাফসার জ¦র আসে। গত ২৮ জুলাই এনএস১ পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু আমার ভাই বাসায় অসুস্থ বলে হাফসা স্বামীর সঙ্গে বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে ওর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওইদিনই ওকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাফসার মৃতদেহ নিয়ে শরীয়তপুরে তার শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন স্বজনরা। শরীয়পুরের ভেদরগঞ্জ থানার সর্দার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে হাফসাকে দাফন করা হবে বলে জানান নুরুন্নাহার।

এদিকে মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন (০৭) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। আল মামুনের পরিচিতরা বলছেন, চারদিন আগে জ¦র নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয় আল মামুন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় তার ডেঙ্গু রোগ হয়েছে। আল মামুন পরিবারের সঙ্গে সবুজবাগ মাদারটেক এলাকায় থাকতো এবং মাদারটেক উত্তরপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসাতে সে পড়াশোনা করতো। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সে। তাদের প্রতিবেশী সুমন বলেন, দুপুরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে শিশু মামুনের মৃত্যু হয়। সে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ ব্যাপারে মুগদা হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর: দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রবিউল ইসলাম (১৭) ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জুন থেকে রবিউল এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই প্রথম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মুত্যু হলো। আরও ৪৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রংপুর: ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত গত সোমবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত রিহানা গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকরী অধ্যাপক সাহেদুজ্জামান রিবেল বলেন, ডেঙ্গু জ¦রসহ শিশুটিকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে নিউমোনিয়াও ছিল।

চাঁদপুর: গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মদিনা আক্তার নামে ওই শিশু মতলব উত্তর উপজেলার ঘনিয়ারপাড় অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মিজানুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মদিনা বড়। ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতালে ভোররাতে তার মৃত্যু হয় বলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম জানান, শনিবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বজনরা। চাঁদপুরে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডা. আনোয়ারুল জানান, গত দুই সপ্তাহে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্য ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাকৃতিকভাবেই জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। গত ১৮ বছর ধরেই এ অবস্থা চলে এসেছে। এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগে মারা গিয়েছেন ১৮ জন। এরমধ্যে এপ্রিলে দুই জন, জুন মাসে তিন জন। আর গত জুলাই মাসে ১৩ জন। তবে গণমাধ্যমের হিসেবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও (শেবাচিম) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলেও কারো স্থান হয়েছে মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝে, আবার কারো ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালটিতে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত সোমবার এ সংখ্যা ছিল ১৫৪ জন। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন। যা এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা। আর সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ভর্তি হওয়া মোট রোগীর মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন, নারী ২৪ জন ও শিশু ১০ জন রয়েছে। অপরদিকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩২ জন রোগী। যার মধ্যে ২১ জন পুরুষ, ৯ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। এদিকে পুরো হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ১৯৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১১০, মহিলা ৬০ ও শিশু ২৩ জন। গত ১৬ জুলাই থেকে ০৬ আগস্ট (গতকাল মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত বরিশাল মেডিকেলে মোট ৩৭৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৪ জন এবং মারা গেছেন দুই যুবক। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সুবিধার্থে হাসপাতালে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যা আমিসহ মেডিসিন ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১৭ জন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এসব রোগী শনাক্ত হয়। চমেক হাসপাতাল পরিসংখ্যান শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুনভাবে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১০৬ জন রোগী। বাকিরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন অনেকে। তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল গাইডলাইন মেনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখন আলাদা ওয়ার্ডে দেওয়া হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শুধু ডেঙ্গু রোগী দেখছেন। এতে সেবার গতি বাড়ার পাশাপাশি রোগীরাও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন। আগে তিনটি বøকে ৬০টি শয্যা ছিল। এখন সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ আক্রান্তের অবস্থা ভালো। কয়েকজন রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল, তবে তারা সেরে উঠেছে। এদিকে অসচ্ছলদের বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা এনএসওয়ান করানোর সুযোগ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কোরবানির ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর আরও ছড়াতে পারে বলে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। সম্ভাব্য এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হাজার হাজার রোগী সামলাতে হিমশিম খাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশজুড়ে চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার সর্বসা¤প্রতিক কৌশলসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা জানি, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। কারণ, মানুষ গ্রামে যাবে। আমরা তাদের বাড়ি যাওয়া বাদ দিতে বলতে পারি না। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডেঙ্গু জ্বরের জীবানু এডিস এজিপ্টি প্রধান বাহক মশা প্রধানত শহরে পাওয়া যায়। তবে মানুষের ভ্রমণের কারণে বাংলাদেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব জিনিস কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কেনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা হাসপাতালের জন্য ১০ লাখ ও উপজেলার জন্য ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৪৩৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কেবল শনিবারই হাসপাতালে গেছেন ২০৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যদিও গণমাধ্যমের খবরে মৃত্যুর সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে। ডবিøউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত¡বিদ বি এন নাগপাল গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ফগার মেশিনে রাস্তা বা উন্মুক্ত জায়গায় কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা মারার আশা কেবলই ‘মিথ’। তার বদলে নিজের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং সকাল-সন্ধ্যা অ্যারোসল স্প্রে করুন, কারণ এডিস মশা ওখানেই থাকে। মশা নিয়ে গবেষণায় ৪০ বছর কাটিয়ে দেওয়া বিএন নাগপাল এডিস মশা মারতে ফগিং মেশিনের প্রয়োগ পদ্ধতি নাচক করে দিয়ে বলেন, সবার আগে এ মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার দিকে নজর দিতে হবে। একটি পানির বোতলের ঢাকনা দেখিয়ে তিনি বলেন, মাত্র দুই মিলিলিটার পানি পেলেও এডিস মশা সেখানে বংশ বিস্তার করতে পারে। এডিস মশা পানির উপরিতলে এমনভাবে ডিম ছাড়ে, যাতে সেগুলো বছরজুড়ে টিকে থাকতে পারে। যখন পাত্র ভরে পানি উপচে পড়ে, তখন সেই ডিম থেকে লার্ভা জন্ম নেয়।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত সোমবার রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত আট জনের মৃত্যুর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ঢাকায় দুই নারী ও দুই পুরুষ ও এক শিশু, দিনাজপুরে এক কিশোর এবং রংপুর ও চাঁদপুরে একজন করে শিশু রয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন:

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিন জন মারা গেছেন। তারা হলেন- মনোয়ারা বেগম (৭৫), আমজাদ মÐল (৫২) ও হাবিবুর রহমান (২১)। ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাছির উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে ঢামেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনোয়ারা বেগম। তার স্বামীর নাম আবদুল হাই। তারা ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকতেন। মনোয়ারার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর হাজিগঞ্জের আহমেদপুরে। মনোয়ারার ছেলে মোশাররফ হোসেন জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত ছিলেন। গত ৩ আগস্ট তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থা গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে তিনি মারা যান। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ মন্ডল। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয়ের কেটুয়াধারা গ্রামে। তার ছোট ভাই রাশেদ মন্ডল জানান, ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হলে শুক্রবার তার ভাইকে মানিকগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত সোমবার রাতে ঢামেকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান। আমজাদ মন্ডল কৃষি কাজ করতেন বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুর রহমান (২১) নামে এক যুবক মারা যান। তার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায়। তিনি গত ৩১ জুলাই থেকে ঢামেকে ভর্তি ছিলেন।

এদিকে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসে ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতালি প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাফসা লিপি নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী চার দিন ধরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় গত সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক জসিমউদ্দিন খান জানান। হাফসার স্বামী সর্দার আবদুল সাত্তার তরুণ (৩৬) নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুই সন্তান অলি (১২) ও আয়ানকে (৬) নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে দেশে এসে কলাবাগানে উঠেছিলেন তারা। সাত্তারের বড় বোন ডা. নুরুন্নাহার জানান, ঢাকায় আসার পরপরই জ¦রে পড়েন তার ভাই। ওর অসুস্থতার মধ্যেই হাফসার জ¦র আসে। গত ২৮ জুলাই এনএস১ পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু আমার ভাই বাসায় অসুস্থ বলে হাফসা স্বামীর সঙ্গে বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে ওর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওইদিনই ওকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাফসার মৃতদেহ নিয়ে শরীয়তপুরে তার শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন স্বজনরা। শরীয়পুরের ভেদরগঞ্জ থানার সর্দার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে হাফসাকে দাফন করা হবে বলে জানান নুরুন্নাহার।

এদিকে মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন (০৭) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। আল মামুনের পরিচিতরা বলছেন, চারদিন আগে জ¦র নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয় আল মামুন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় তার ডেঙ্গু রোগ হয়েছে। আল মামুন পরিবারের সঙ্গে সবুজবাগ মাদারটেক এলাকায় থাকতো এবং মাদারটেক উত্তরপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসাতে সে পড়াশোনা করতো। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সে। তাদের প্রতিবেশী সুমন বলেন, দুপুরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে শিশু মামুনের মৃত্যু হয়। সে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ ব্যাপারে মুগদা হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর: দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রবিউল ইসলাম (১৭) ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জুন থেকে রবিউল এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই প্রথম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মুত্যু হলো। আরও ৪৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রংপুর: ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত গত সোমবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত রিহানা গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকরী অধ্যাপক সাহেদুজ্জামান রিবেল বলেন, ডেঙ্গু জ¦রসহ শিশুটিকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে নিউমোনিয়াও ছিল।

চাঁদপুর: গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মদিনা আক্তার নামে ওই শিশু মতলব উত্তর উপজেলার ঘনিয়ারপাড় অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মিজানুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মদিনা বড়। ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতালে ভোররাতে তার মৃত্যু হয় বলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম জানান, শনিবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বজনরা। চাঁদপুরে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডা. আনোয়ারুল জানান, গত দুই সপ্তাহে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্য ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাকৃতিকভাবেই জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। গত ১৮ বছর ধরেই এ অবস্থা চলে এসেছে। এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগে মারা গিয়েছেন ১৮ জন। এরমধ্যে এপ্রিলে দুই জন, জুন মাসে তিন জন। আর গত জুলাই মাসে ১৩ জন। তবে গণমাধ্যমের হিসেবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও (শেবাচিম) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলেও কারো স্থান হয়েছে মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝে, আবার কারো ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালটিতে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত সোমবার এ সংখ্যা ছিল ১৫৪ জন। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন। যা এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা। আর সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ভর্তি হওয়া মোট রোগীর মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন, নারী ২৪ জন ও শিশু ১০ জন রয়েছে। অপরদিকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩২ জন রোগী। যার মধ্যে ২১ জন পুরুষ, ৯ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। এদিকে পুরো হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ১৯৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১১০, মহিলা ৬০ ও শিশু ২৩ জন। গত ১৬ জুলাই থেকে ০৬ আগস্ট (গতকাল মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত বরিশাল মেডিকেলে মোট ৩৭৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৪ জন এবং মারা গেছেন দুই যুবক। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সুবিধার্থে হাসপাতালে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যা আমিসহ মেডিসিন ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১৭ জন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এসব রোগী শনাক্ত হয়। চমেক হাসপাতাল পরিসংখ্যান শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুনভাবে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১০৬ জন রোগী। বাকিরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন অনেকে। তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল গাইডলাইন মেনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখন আলাদা ওয়ার্ডে দেওয়া হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শুধু ডেঙ্গু রোগী দেখছেন। এতে সেবার গতি বাড়ার পাশাপাশি রোগীরাও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন। আগে তিনটি ব্লকে ৬০টি শয্যা ছিল। এখন সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ আক্রান্তের অবস্থা ভালো। কয়েকজন রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল, তবে তারা সেরে উঠেছে। এদিকে অসচ্ছলদের বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা এনএসওয়ান করানোর সুযোগ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 



আমার বার্তা/০৭ আগস্ট ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন