শিরোনাম :

  • ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস আজ কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নাইজারে সেনা ক্যাম্পে হামলায় নিহত ৭১
ডেঙ্গু নির্মূলে সমন্বিত পরিকল্পনার দাবি পরিবেশবাদীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৮ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:১৯:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


ঈদের সময় অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগে গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে পবা কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদ যাত্রায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সামগ্রিক গণসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা বাড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব এডিস মশা নির্মূলে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সাময়িকভাবে সতকর্তার সঙ্গে রাসায়নিক ব্যবহার করলেও বছরব্যাপি ডেঙ্গু নির্মূলে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। পবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী, নারীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, আইনজীবী মাহবুবুল আল তাহিন, স্বাস্থ্য পরামর্শক জেবুন নেসা, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, শাকিল রহমান, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা সুদিপ্তা কর্মকার প্রমূখ। সভায় ধারণাপত্র উত্থাপন করেন বারসিকের সহযোগী সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি সকলের ধারণার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আর এ সময়ে আমরা উদযাপিত করতে যাচ্ছি মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য এক জটিল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এডিস মশাবাহিত এ রোগ হঠাৎ করে এক দুই দিনেই এমন লাগামহীন হয়ে যায়নি। ৯০ দশকের পর থেকে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করে। কিন্তু সে সময় নীতি নির্ধারণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি। নগরের প্রকৃতি এবং পরিবেশ বিবেচনা না করে বরং সব কিছু সমূলে বিনাশ করে উন্নয়নের নামে বড় বড় দালান তৈরির করে এডিসসহ অন্য মশার উপযুক্ত পরিবেশ করে দিয়েছে। ফলে ডেঙ্গু সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। মোটা দাগে জনস্বাস্থ্য সেবায় সংকট এবং প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উদাসীনতা ডেঙ্গু বিষয়ে সাম্প্রতিক তর্কের ময়দান দখল করে আছে। আড়াল হয়ে পড়ছে পরিবেশগত সংকট ও বাস্তুসংস্থানের বিশৃংখলার বিষয়গুলো। যতটুকু জানা গেছে বাংলাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে মূলত: ঢাকা অঞ্চল থেকেই। নিদারুণ পরিবেশ-যন্ত্রণায় কাতর এ মহানগরকে আমরাই প্রতিদিন বিপজ্জনক করে তুলছি। এই ছোট্ট নগর আর আমাদের দুঃসহ দূষণ ভার সইতে পারছে না। আমরা নির্দয়ভাবে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও বালু নদীকে হত্যা করে চলেছি। ঊনিশ খালসহ সব জলাশয় উধাও করে দিয়েছি। নতুন প্রজন্মের জন্য এক চিলতে ফাঁকা মাঠ কী ময়দান আমরা অবশিষ্ট রাখছি না। এ নগরের কয়টি উদ্যানই বা সুস্থ আছে? অল্প বর্ষাতেই শহর ডুবে ভেসে একাকার হয়ে যায়। ডেঙ্গু এখনও একটি মেগাসিটির রোগ হিসেবে পরিচিত।

পত্রিকার হিসাব মতে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা যে এ সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি তা যে কেউ অনুমান করতে পারে। কারণ ডেঙ্গুর সব তথ্য তো গণমাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার নামী দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। তাছাড়া সরকারি হাসপাতালেও অনেকে মারা গেছেন এবং অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছে।

তারা বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যারা ঢাকা ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়ার কথা ভাবছেন তাদের অনেকেই শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করতে পারেন। অনেকে আবার জ্বর নিয়েও বাড়ি যেতে পারেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের কোনো প্রকার ভ্রমণ আরও অনেককেই বিপদে ফেলতে পারে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তিও ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে। ঈদের সময়টা আমাদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও নির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি।

আর যদি কেউ ভুলক্রমে এ রোগের ভাইরাস বহন করে বাড়িতে যায় সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য তার কী ধরনের বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে হবে তা সুস্পষ্ট হওয়া জরুরি।



আমার বার্তা/০৮ আগস্ট ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন