শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
২০১২ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেরা ব্যাটার বিজয় কোথায়?
সুব্রত ববি :
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:৪৬:০৩
প্রিন্টঅ-অ+

নজিবুল্লাহ ম্যাচ জেতান, বাবর ,ডি কক বিশ্ব তারকা; ২০১২ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেরা ব্যাটার বিজয় কোথায়? যে সিচুয়েশন থেকে আফগানিস্তান ম্যাচ জিতলো, এমন পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারতো? ১৭ বলে ৬টা ছক্কায় অপরাজিত ৪৩ রান করে ম্যাচ জেতানো নজিবুল্লাহ জর্দানের মতো কোন ব্যাটসম্যান আছে বাংলাদেশের?


১২৭ মামুলি স্কোর হলেও আফগানিস্তানকে শেষ ৪ ওভারে ৪৩ করতে হবে এমন পরিস্থিতিতে দাড় করানোর পর সেই ম্যাচ ৯ বল আগেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। হারিয়েছেন নজিবুল্লাহ। মুস্তাফিজ,তাসকিন,সাইফদের তুলোধন করে ফেলেছেন বাহাতি মিডিল অর্ডার আফগানী।


এই নজিবুল্লাহ কিন্তু এনমুল হক বিজয়ের ব্যাচের ক্রিকেটার। দুজনেই ২০১২র অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্রোডাক্ট। সেই  বিশ্বকাপ থেকেই পাকিস্তান পেয়েছে বাবর আজমকে।


একজন ব্যাট হাতে বিশ্ব সাশন করছেন, এই মুহুর্তের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। টেস্ট , ওয়ানডে দুই ফরমেটে- র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে। নজিবুল্লাহ ব্যাট হাতে আফগানিস্তানকে ম্যাচ জেতাচ্ছেন,দলে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে প্রমান করেছেন। আর ওদিকে এনামুল হক বিজয় কোথায় দাঁড়িয়ে?


আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেনার ১৪ বলে ৫ রান করতেই ঘাম বেরিয়ে গেলো তার।এক যুগেও জাতীয় দলে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারেননি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফাটিয়ে ফেললেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার এক বিন্দু রিফ্লেকশন নেই।


অথচ বাবর, দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টিন ডি কক-,নজিবুল্লাহ-এখণ যারা বিশ্ব তারকা তারা সবাই ২০১২র অনূর্ধ্ব বিশ্বকাপে বিজয়ের পেছনে ছিলেন।


সেই বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৬০.৮৩ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৩৬৫ রান করেছিলেন এনামুল হক বিজয়।


বাবর আজম ১ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে করেছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮৭ রান। ডি ককও ১ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে করেছিলেন ২৮৪ রান। নজিবুল্লাহ জর্দান ৬ ম্যাচে ২ ফিফটিতে ২০৪ রান করেছিলেন।


এই চারজনের মধ্যে ২০১২ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিলো নজিবুল্লাহ ও বিজয়র। আলোর আভা ছড়িয়ে অভিষেক হলেও বিজয়র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ৫ টেস্ট ৪১ ওয়ানডে এবং ২০ টি-টুয়েন্টির।তিন ফরমেট মিলে রান করেছেন ১৭৬৬।


নজিবুল্লাহ জর্দান ৭৯ ওয়ানডেতে ১৮৪৯ আর ৮০ টি-টুয়েন্টিতে ১৫৩২ রান করেছেন। ডি কক তিন ফরমেট মিলে ২৩টা সেঞ্চুরি আর৬২টি ফিফটি আর দশ হাজারের উপরে রান করেছেন।  বিজয়ের  তিন বছর পর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক বাবর আজমের। এখনতো তাকে 


সমকাল ছাপিয়ে সর্বকালের সেরা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তিন ফরমেট মিলে ২০৯ ম্যাচে ২৫টা সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। ৭১টা ফিফটির ইনিংস। দশ হাজার রানকে ছাড়িয়ে ফেলেছেন।


অন্যদিকে ২০১২র অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহাক এনমুল হক বিজয়ের থেকে জাতীয় দল সেভাবে সার্ভিস পেলেন না।তিন বছর পর গত ওয়েস্টইন্ডিজ সফরে টি-টুয়েন্টি দলে ফেরার সুযোগটা এখনও পর্যন্ত এক বিন্দু কাজে লাগাতে পারেলেন না এনামুল হক বিজয়। দলে ফেরার পর সাত টি-টুয়েন্টিতে তার স্কোরগুলো হচ্ছে ১০ বলে ১৬, ৪ বলে ৩, ১১বলে ১০, ২৭ বলে ২৬, ১৫ বলে ১৬ ১৩ বলে ১৪ এবং ১৪ বলে ৫।


মোট রান ৯০। ওয়েস্টইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থ হবার পরও লিটন,সোহানের ইনজুরিতে সুযোগ পেয়েছিলেন এশিয়াকাপে। আরব আমিরাতে নেট প্র্যাকটিসে বড় নাকি সব শটস খেলেছিলেন। সেখানে তিনি গনমাধ্যমে বেলেছিলেন কেউ  বলতে পারবে না দলের কেউ ৪/৬ মারতে পারেন না। সবার ৪/৬ মারার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার কথা ও কাজের মিল কোথায়। তার খেলা সবশেষ ৭ ম্যাচে বিজয় নিজে কয়টা বাউন্ডারি কয়টা ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন? ৮টা চার আর ২টা ছক্কা মেরেছেন তিনি। এমন পারফরমেন্স দিয়ে কি করে ফিরে পাওয়া জায়গা টিকিয়ে রাখবেন বিজয়।


লেখক : ক্রীড়া সাংবাদিক (লেখাটি ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া)।

আরো পড়ুন