শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
খুসিক নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি : আমান
১৬ মে, ২০১৮ ১৪:৪৭:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে অন্যথায় বৃহত্তর গণ আন্দোলনেরর মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির স্বাধীনতা হলে এক যুব সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে 'দেশ বাচাও মানুষ বাচাও আন্দোলন' এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা হলেন কীভাবে?- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সমালোচনা করে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ যখন গণতান্ত্রিক সরকারকে বন্দুকের নলের ডোগায় হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন কায়েম করে তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী দেশে মার্শাল ল’র বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন- আই এম নট আন হ্যাপি। তার মানে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গণতন্ত্র চাননি। তিনি স্বৈরশাসন চেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন শেখ হাসিনাও বাধ্য হয়েছিলেন সেই গণতান্ত্রিক অন্দোলনে অংশ নিতে। তিনি এসেছিলেন কিন্তু বার বার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।

সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, চট্টগ্রাম লালদিঘীর ময়দানে আজকের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- ‘যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান।’ শেখ হাসিনা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় এসে রাতের অন্ধকারে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের বইয়ের ভাষায়- ‘এরশাদের সঙ্গে লং ড্রাইভে’ গিয়ে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে গিয়েছিলেন এবং সেদিন তিনি গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন।

বেগম খালােদা জিয়াকেও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন এরশাদের অধীনে আপনি কি নির্বাচনে যাবেন? তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে। তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে আমি বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে যাব না।’

গতকাল খুলনায় অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, খুসিক নির্বাচন একটি প্রহসনের নির্বাচন। একদলীয় শাসনের নির্বাচন। এ নির্বাচন হয়েছে ’৭৩ সালের নির্বাচনের মতো।

খুসিক নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হতো তাহলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করত। তাই এ নির্বাচন আমরা প্রত্যাখ্যান করি। নতুন করে আবার নির্বাচন দিতে হবে এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সরকারের অাজ্ঞাবহ। এ নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তার জ্বলন্ত প্রমাণ খুলনার নির্বাচন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাইফুদ্দিন মনি, শহীদুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান আসাদ, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।



 



আমার বার্তা/১৬ মে ২০১৮/জহির


আরো পড়ুন