শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, জানতে চান কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:০৫:১২
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে পাস করলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- সেটি জানতে চেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপির ‘পিএম ফেস’ আসলে কে?

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তারা যে একটা নির্বাচন করবে, আমাদের তো পিএম (প্রধানমন্ত্রী) ফেস আছেন, তাদের (বিএনপি) পিএম ফেস কে? প্রত্যেক দেশে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রত্যেক দলের বা জোটের পিএম ফেস থাকে। আমি জানতে চাই, তাদের পিএম ফেস কে? কে তাদের পিএম ফেস?’

তিনি বলেন, ‘এটা দেশবাসীরও জিজ্ঞাসা। তারা নির্বাচনে জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? ড. কামাল হোসন না তারেক রহমান!’

মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্য না হয়েও বিশেষ বিবেচনায় মন্ত্রী) মন্ত্রীদের কেউ থাকবেন না। তবে সেখানে নতুন করে কারও আসার সম্ভাবনা নেই। এর আকার ছোট হবে কিনা, সেটা দু-তিনদিনের মধ্যে জানা যাবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছু নেই। পৃথিবীর সব দেশে যখন নির্বাচন হয় তখন যে সরকার ওই সময় ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারই বহাল থাকে। নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নিকট থাকে।’

তিনি বলেন, তবে এ সময় মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের কেউ থাকবেন না। কবে থেকে থাকবেন না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়াধীন’। এখন প্রধানমন্ত্রী তাদের পদত্যাগের বিষয়টি দেখছেন। তিনি অ্যাপ্রুভ করলেই সেটা রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাপ্রুভ করলেই তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে।’

‘রাষ্ট্রপতি অ্যাপ্রুভ না করা পর্যন্ত তারা কেউ অবৈধ্য নয়’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে গত ৬ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ওইদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে চার মন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর তারা আর দায়িত্বে নেই ধরে নিয়ে পরের দিন বুধবার সকাল নাগাদ চার মন্ত্রী অফিস না করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তারা উপস্থিত ছিলেন।

টেকনোক্র্যাট ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে কী হবে- জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা আছেন, সেখানে সংখ্যা বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে কমানোর ব্যাপারটা এখনও পরিষ্কার নয়। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।’

গত নির্বাচনেও নির্বাচনকালীন বলে কোনো সরকার গঠন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের আকার ছোট করা হয়েছিল মাত্র।

গত ২৩ অক্টোবর একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভার আকার ছোট না–ও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখনকার মন্ত্রিসভায় ‘সব দলের’ প্রতিনিধিই আছেন। নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতারা বলে আসছিলেন, ২০১৩ সালের মতো এবারও ভোটের আগে ‘ছোট আকারের নির্বাচনকালীন’ সরকার গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছোট আকারের মন্ত্রিসভার আভাস দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার আকার ও ধরন নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে? যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, কোথাও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয় না।’



আমার বার্তা/১৫ নভেম্বর ২০১৮/জহির


আরো পড়ুন