শিরোনাম :

  • ডি মারিয়া উড়িয়ে দিলেন রিয়ালকে তিন সপ্তাহ পরিকল্পনা, অতঃপর অভিযানের গ্রিন সিগন্যাল কোহলির ব্যাটে সহজ জয় ভারতের বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বাড়িতে হামলা জাবি উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আল্টেমেটাম
কৃষকদের দুরাবস্থা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৫ মে, ২০১৯ ১৪:১৪:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের কৃষকদের বর্তমান দুরাবস্থা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছে বিএনপি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রসস্ত। দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা।'

‘দেশের কৃষককুল তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ধানের জমিতে আগুন দিয়ে রাস্তায় ধান ফেলে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কৃষকদের বিশেষ করে ধান চাষীদের চাওয়া হচ্ছে-সরকার ন্যায্য মূল্যে চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করুক। কৃষকদের চাওয়া খুবই সামান্য ও যৌক্তিক। আমরা কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত।’

তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষকদের ন্যায্য দাবির কথা কানেও নিচ্ছে না বরং সরকারের একজন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কৃষকদের এই বিক্ষোভকে ‘স্যাবোটেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কৃষকদের বাস্তব এই সেন্টিমেন্টকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতার এহেন মন্তব্যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এদেশের কৃষকদের বর্তমানে যে দুরাবস্থা তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন।'

চাল আমদানির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একদিকে সরকার বলছে চাল উৎপাদনে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করছে। চাল উৎপাদন নিয়ে সরকারের মিথ্যাচার ধরা পড়েছে সরকারের দেয়া পরিসংখ্যানেই।’

‘বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করার কারণে সরকারি-বেসরকারি হিসাব বলছে দেশে বর্তমানে ২৫/৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। ফলে বাজারে চাপ তৈরি করছে এবং ধানের দাম কমছে। অনিয়ন্ত্রিত চাল আমদানিকে দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন, কেন এই চাল আমদানির হিড়িক ?’

চাল আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা ব্যাপকতা লাভ করেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকারের অংশীদারি একটি দলের প্রাক্তন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও চাল আমদানিতে সরকারের দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি দলের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও এহেন পরিস্থিতির জন্য এ সরকারের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন।'

‘সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে না কিনে কিনছে চালকল মালিকদের কাছ থেকে। অর্থাৎ মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছ থেকে। এতে লাভবান হচ্ছে চালকল মালিকরা। আর সর্বশান্ত হয়ে মনের দুঃখে কৃষক তার ধান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে।’

কৃষকদের দুরাবস্থা দূর করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেন বিএনপির এই নেতা।



আমার বার্তা/২৫ মে ২০১৯/জহির



 


আরো পড়ুন