শিরোনাম :

  • আবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে ২ কোটি ৯০ লাখ শিশুর জন্ম সংঘাতময় এলাকায় : ইউনিসেফ হাতিরঝিলে ভেসে উঠলো মরদেহ পেছাল ব্রাজিল-বাংলাদেশ, অপরিবর্তিত আর্জেন্টিনা কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা
কেরানীগঞ্জ এলাকা মরুভূমির মতো : মওদুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৮ মে, ২০১৯ ১৪:৫৮:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার শুনানির কোনো পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ এলাকা মরুভূমির মতো। সেটি একটি থানা, সেটা ঢাকা মহানগরীর বাইরে।

কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে মঙ্গলবার (২৮ মে) খালেদার করা রিটের আংশিক শুনানির পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য পুরান ঢাকার কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট শুনানির পরবর্তী দিন ১০ জুন ধার্য করেন আদালত।

রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বদরোজ্জো বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রাগীব রউফ চৌধুরী, এহসানুর রহমান, ফাইয়াজ জিবরান ও মীর হেলাল প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশিদ আলম খান।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে (বিশেষ জজ আদালত-৯) মামলাটির কার্যক্রম চলছিল। তবে, নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে ১২ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে, সরকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নির্মিত ২-নম্বর ভবনকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে। বলা হয়, মামলার বিচার কার্যক্রম ওই ভবনের অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

এ অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে ২১ মে আইন সচিব বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার বা বাতিল না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে রোববার (২৬ মে) রিটটি করা হয় বলে জানান আইনজীবী কায়সার কামাল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বিচার প্রকাশ্য ও উন্মুক্ত হওয়া উচিত, যেখানে পাবলিক সহজে বিচারকার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কেরানীগঞ্জ কারাগারের একটি কক্ষে কখনো পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। মামলার বিচার মহানগর এলাকার মধ্যে হতে হবে আইনে আছে। অথচ কেরানীগঞ্জ কারাগার ঢাকা মহানগর এলাকার আওতাধীন নয়। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনটি আইনের দৃষ্টিতে সমতা-সংক্রান্ত সংবিধানের ২৭ ও আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার সংক্রান্ত সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ এর (১) ও (২) উপধারা বিরোধী।

রিট আবেদনে দেখা যায়, নাইকো মামলা-সংক্রান্ত ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন সচিবসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।



আমার বার্তা/২৮ মে ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন