শিরোনাম :

  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে পারলে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে : রাষ্ট্রপতি যারা মানবতাবিরোধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদেরও বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৩৯:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশ ঘিরে মুক্তিকামী জনতার মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনের দাবিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগে এ মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটা আন্দোলনের একটি ধাপ। বরিশালের মহাসমাবেশ ঘিরে মুক্তিকামী জনতার মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জনসমুদ্রে পরিণত হবে সমাবেশ।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে পুলিশ প্রশাসন। বরিশালে গত এক সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তায় রেখে শেষ মুহূর্তে গতকাল ঈদগাহ মাঠে মহাসমাবেশের অনুমতি দিলেও বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা বরিশালের বেলস পার্কে সমাবেশের জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেয়া হয়েছে ঈদগাহ মাঠ। যার পরিসর অত্যন্ত ছোট। এটা সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

সরকারের উন্নয়নের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ সরকার তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপর বাজির মাধ্যমে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে। সরকারের রথী-মহারথীরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সব সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তিনবেলা পেটভরে খেতে না পরলেও মিডনাইট সরকার উন্নয়নের দোহায় দিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারতেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে যৌথভাবে প্রণীত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশে দুই কোটি ৪২ লাখ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে দেশে প্রতি ছয়জনের একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। গত এক দশকে দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে।’ অথচ রাতের আঁধারে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ‘দেশে কোনো হাহাকার নেই, অভুক্ত মানুষ নেই।’ জনগণের টুঁটি চেপে ধরা এ সরকারের চাপাবাজ মন্ত্রীরা বলছেন, দেশ নাকি উন্নয়নে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং ইউরোপে পরিণত হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘বিনা নির্বাচনে শুধু লুটপাটের জন্য ক্ষমতায় থাকা অবৈধ এ সরকারের গত দশ বছরে ধনীরা আরও ধনী, গরীব আরও গরীব হয়েছে। নজীরবিহীন দলীয়করণ, প্রশাসন ও অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করেছে। লাগামহীনভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গণলুট দেশের অর্থনীতিকে ভেতরে ভেতরে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলছে। জাতিকে বার বার জিডিপি হিসেবের বিভ্রাটে ফেলা হচ্ছে। সরকারের জিডিপির হিসাব ডাহা মিথ্যাচারের একটি নমুনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, উন্নয়ন প্রপাগান্ডার ঢোল বাজানো বন্ধ করুন। দেশের দরিদ্র মানুষকে নিয়ে তামাশা করবেন না। দ্রুত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/১৮ জুলাই ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন