শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক :
০২ জুন, ২০১৯ ১১:০১:১০
প্রিন্টঅ-অ+


এ যেন অনেকটা চার বছর আগের সেই ম্যাচেরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৫ বিশ্বকাপে পার্থে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নারের ১৭৮ ও স্টিভেন স্মিথের ৯৫ রানের পর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতেছিল ২৭৫ রানে। পরের চার বছর ওয়ানডেতে আর দেখা হয়নি দুই দলের। অবশেষে দেখা হলো আরেকটি বিশ্বকাপে এসেই। যেখানে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ব্রিস্টলে শনিবার আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানে ২ ও ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে রহমত শাহর ৪৩, নজিবুল্লাহ জাদরানের ৫১ ও শেষ দিকে রশিদ খানের ১১ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে ২০৭ রানের পুঁজি পায় আফগানিস্তান।

চার বছর আগে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে বড় অবদান ছিল যাদের, সেই ওয়ার্নার ও স্মিথ বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন শনিবারের এই ম্যাচ দিয়েই। ওয়ার্নার ফেরাটা রাঙিয়েছেন অপরাজিত ৮৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে। আর অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ৪৯ বলে ৬৬ রানের সুবাদে ছোট লক্ষ্যটা অস্ট্রেলিয়া পেরিয়ে গেছে ৯১ বল বাকি থাকতেই। স্মিথ ১৮ রান করলেও ফিল্ডিংয়ে নিয়েছেন দারুণ একটি ক্যাচ, করেছেন একটি রান আউটও।

ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই হারায় দুই ওপেনারকে। মিচেল স্টার্কের ফুল লেংথ বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন মোহাম্মদ শাহজাদ। প্যাট কামিন্সের অফ স্টাম্পে বেরিয়ে যাওয়া বলে ডাইভ করে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন হজরতউল্লাহ জাজাই। স্কোর তখন ২ উইকেটে ৫!

তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েছিলেন রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদি। দুজন গড়ে ফেলেছিলেন ৫১ রানের জুটি। এরপরই লেগ স্পিনার অ্যাডাম জামপাকে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন শাহিদি (১৮)। ৪৩ রানে জামপার বলেই রহমত ফেরেন শর্ট কাভারে স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচ দিয়ে

মোহাম্মদ নবী কাটা পড়েন রান আউটে। মার্কাস স্টয়নিসের বল কাভারে খেলেই সিঙ্গেলের জন্য বেরিয়ে এসেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দারুণভাবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বলটা ধরেই উইকেটকিপারকে থ্রো করেন স্মিথ। নবী আর ফিরতে পারেননি। তখন ৭৭ রানেই নেই ৫ উইকেট।

ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব ও নজিবুল্লাহ জাদরান। দুজন গড়ে ফেলেন ৮৩ রানের জুটি। নজিবুল্লাহ তুলে নেন ফিফটি। তবে দুজনই স্টয়নিসের একই ওভারে ফেরেন দুটি শর্ট বলে। নজিবুল্লাহ ৪৯ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫১, নাইব করেন ৩১ রান। টেকেননি দৌলত জাদরান।

১৬৬ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তানকে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন মূলত রশিদ ও মুজিব উর রহমান। নবম উইকেটে মাত্র ১৫ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়েন এই দুজন।

এর মধ্যে স্টয়নিসের একই ওভারে রশিদ হাঁকান দুটি ছক্কা, দুটি চার। জামপাকেও ছক্কা হাঁকানোর পরের বল সুইপ করতে গিয়ে থামেন রশিদ। ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ২৭ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৯ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৩ রান করেন মুজিব।

কামিন্স ৪০ রানে ও জামপা ৬০ রানে নেন ৩টি করে উইকেট। স্টয়নিস ৩৭ রানে ২টি ও স্টার্ক ৩১ রানে নেন একটি উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। ফিঞ্চ ছিলেন একটু বেশি আক্রমণাত্মক। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ফিফটি তুলে নেন ৪০ বলে। ফিঞ্চকে ফিরিয়ে ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন গুলবাদিন। ৪৯ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ফিঞ্চ করেন ৬৬ রান।

ওয়ার্নার শুরু থেকেই খেলেছেন দেখেশুনে। শুরুতে রানের জন্য কিছুটা সংগ্রামও করতে হয়েছে তাকে। ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন উইকেটে। ফিঞ্চের বিদায়ের পর ওয়ার্নার ফিফটি তুলে নেন ৭৪ বলে। তিনে নামা উসমান খাজা অবশ্য ১৫ রান করেই এলবিডব্লিউ হন রশিদের বলে।

এরপর ওয়ার্নারের সঙ্গে ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন স্মিথ। তবে জয় থেকে ৩ রান দূরে থাকতে মুজিবের বলে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। উইকেটে এসে মুখোমুখি প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১১৪ বলে ৮ চারে ৮৯ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়ার্নার।



আমার বার্তা/০২ জুন ২০১৯/জহির

 


আরো পড়ুন