শিরোনাম :

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে যোগ দিলেন রাবাব ফাতিমা পরিবর্তন আসছে ৬৭ ট্রেনের সময়সূচিতে হায়দারাবাদের পর এবার বিহারে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে হত্যা মৌরিতানিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৮ শরণার্থীর মৃত্যু
মুশফিক কখনও এমন পরিস্থিতিতে আর পড়তে চান না
স্পোর্টস ডেস্ক :
২৯ জুলাই, ২০১৯ ১১:৩৫:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের মহা ব্যাটিং বিপর্যয়। ১০০ রানের আগেই (৮৮ রানে) ৫ উইকেটের পতন। লঙ্কান বোলারদের সামনে যেন হাঁটু কাঁপছে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। এ সময় অন্তত দলের মান রক্ষার জন্য হলেও কাউকে না কাউকে প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছিল।

ত্রানকর্তার সেই ভূমিকাটা নিলেন মুশফিকুর রহীম। একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই করে গেলেন। শেষ পর্যন্ত ১১০ বলে তিনি ছিলেন ৯৮ রানে অপরাজিত। ২ রানের জন্য ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরিটা পেলেন না মুশফিক।

তার ৯৮ রানের ওপর ভর করেই মূলতঃ ২৩৮ রানের একটা সম্মানজনক রান স্কোরবোর্ডে তুলতে সক্ষম হয় টাইগাররা। যদিও মুশফিকের এই একক প্রচেষ্টা কেবলই হতাশার সৃষ্টি করেছে শেষ পর্যন্ত। কারণ, বোলারদের নির্বিষ বোলিংয়ের কারণে বাংলাদেশকে হারতে হলো ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ৫.২ ওভার বাকি থাকতেই।

ম্যাচ শেষে কথা বলার জন্য পারফরমার মুশফিকুর রহীমই এলেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে এসে তিনি জানিয়ে দিলেন, এভাবে একক লড়াই করা যে কারও জন্য কঠিন। অন্তত কিছুটা সহযোগিতা পেলে ঝুঁকি নিয়ে শট খেলা যায়, রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা যায়। কিন্তু যখন দেখছেন, তিনি একাই টিকে আছেন। আশপাশে কেউ নেই- তখন ইচ্ছা সত্ত্বেও হাতখুলে খেলা যায় না।

মুশফিকুর রহীম বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করা আমার জন্যও অনেক কষ্টকর। অনেক সময় ঝুঁকি নিতে চাইলে হয়তোবা ব্যাক অফ মাইন্ডে থাকে যে, না উইকেট পড়ে গেলে হয়তো বা রানটাও হবে না। কেউ তো নেই আর শেষের দিকে। এটা একটু কঠিন হয়ে যায়।’

টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় খুব হতাশ মুশফিক। তাদের মধ্যে একজন কিংবা দু’জন দাঁড়াতে পারলেও পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। মুশফিক বলেন, ‘তবে আমি যেটি বললাম যে, কখনো কেউই চায় না যে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বারবার গিয়ে ব্যর্থ হবে। তারা চেষ্টা করছে এবং আমি আশা করি পরের ম্যাচে তারা ওভারকাম করবে। আমার চেষ্টা থাকবে যে পরিস্থিতিতেই যাই না কেন এটা একটা ব্যাটসম্যানের মূল্য থাকে, মানে আমার উপরে যে দায়িত্ব সেই অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করে খেলতে এবং আমি এমন পরিস্থিতিতে কখনো চাই না পড়তে। তবে যখনই পড়ি তখন আমি আমার সেরাটা বের করে আনতে পারি।’

তবুও মুশফিকের বক্তব্য হচ্ছে, তারা শতভাগ চেষ্টা করেছেন। ফিল্ডিংটা আরেকটু ভালো হলে সেই চেষ্টা পরিপূর্ণতা পেতো হয়তো। তিনি বলেন, ‘আমি একটা জিনিস বলতে পারি, আমরা সবাই শতভাগ চেষ্টা করছি। হয়তোবা ফিল্ডিং এমন একটা জিনিস বাইরে থেকে দেখা যায় কেমন করছে। ওই জায়গাটায় আমার মনে হয় একটু উন্নতি করলে আমাদের পুরো দলটাই চাঙ্গা থাকবে। সত্যি কথা বলতে সবারই খারাপ সময় যেতে পারে, এমন না যে তারা চেষ্টা করছে না। অনেক সময় অনেক বেশি চেষ্টা করলেও হয় না। সবাই আলাদাভাবে অনেক চেষ্টা করছে। আমিও সেভাবেই চেষ্টা করি।’

তবে মুশফিক এটা বিশ্বাস করেন, সময় সবার একরকম যায় না। কারও ভালো যায়, কারো খারাপ যায়। এখন হয়তো তার ভালো যাচ্ছে। অন্যসময় অন্য কেউ ভালো করবে। এই বিশ্বাস তার রয়েছে। মুশফিক বলেন, ‘এখন আল্লাহ আমাকে দিচ্ছেন। এরপর কয়েকটা ম্যাচে অন্য কেউ করবে। আমার এরকম নাও হতে পারে। সবসময় সবাই চেষ্টা করে। সবাই জানে কত কষ্ট করে এই জায়গাতে আসতে হয়। এই জায়গাটা ধরে রাখা কত কষ্টকর। আমার মনে হয় না কেউ এতো সহজে এই জায়গাটা ছেড়ে দিতে চাইবে। এই জায়গাটার মূল্য দিতে চাইবে না। আমার মনে হয় সবাই এটার মূল্য দেয়। অনেকসময় এটা ক্লিক করে না।’

মুশফিক মনে করেন, সময়তা তাদের জন্য কঠিনিই যাচ্ছে। এমন সময় আসতেই পারে। তবে, দল হিসেবে তারা কতটা উন্নতি করেছে সেটা দেখানোর সময় এখনই। খারাপ সময় থেকে বের হয়ে আসার মাধ্যমেই তারা সেই প্রমাণ দিতে পারেন। বাংলাদেশ দলের এই পারফরমার বলেন, ‘এটা ঠিক আমাদের একটি কঠিন সময় যাচ্ছে; কিন্তু এটাই দেখানোর চ্যালেঞ্জ আমরা কতোটা কামব্যাক করতে পারি। এটা সবার মাথায় আছে এবং চেষ্টা করছি।’

তবে মুশফিক মনে করেন না শ্রীলঙ্কার কাছে এই হারে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের যে অর্জন তা মুছে যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবসময় মনে হয় বিশ্বকাপে আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি। এটা আমাদের সুযোগ ছিল প্রমাণ করার যে আমরা রাইট ওয়েতেই আছি। হয়তোবা শেষ দুটি ম্যাচে আমরা এটা করতে পারিনি। এর মানে এই না যে আমরা গত ৫-৭ বছরে যা করেছি, সব মুছে যাবে।’



আমার বার্তা/২৯ জুলাই ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন