শিরোনাম :

  • বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ দেশে ফিরেছেন ১৬৬৭০ হাজি মক্কায় আরও এক বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু প্রথম দিনই মিডিয়া সেশনে আসবেন দুই নতুন কোচ আজ নায়করাজের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী
রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে এখনও ব্যথা অনুভব করেন রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক :
৩০ জুলাই, ২০১৯ ১১:৫১:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছিলেন। কিন্তু এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হৃদয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাটা অকপটে প্রকাশও করে দিলেন। জানিয়ে দিলেন, রিয়াল ছেড়ে যাওয়ার কারণে এখনও অন্তরে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মাদ্রিদে এসেছিলেন মার্কা লিজেন্ডস অ্যাওয়ার্ড নেয়ার জন্য। সেখানে এসে নানামুখি অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হলেন বর্তমান জুভেন্টাস তারকা। সেখানে এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন, যা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। যেটাকে বলে একেবারে পিকুলিয়ার অভিজ্ঞতা।

পাঁচ শিশু সাংবাদিক বেশে ইন্টারভিউ করতে এসেছিলো রোনালদোর সামনে। প্রতিটি শিশুই পরেছিল পুরো ক্যারিয়ারে যে সব জার্সি পরে খেলেছেন রোনালদো, সেগুলো। এমন পরিস্থিতির সামনে পড়ে শুরুতে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু তিনি সব সময়ই শিশুদের সঙ্গে খুব বন্ধুত্বভাবাপন্ন হয়ে থাকেন। এবারও হলেন এবং হাসিমুখে ওই ৫ শিশুর নানা প্রশ্নের জবাব দিতে থাকেন।

সংবাদ মাধ্যমকে তো সব সময়ই দারুণ সামলে নেন রোনালদো। কিন্তু শিশু সাংবাদিকদের কিভাবে সামলাবেন? পরিস্থিতি সহজ করার জন্যই হয়তো প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগেই হাসি-ঠাট্টা করে নেন তিনি।

প্রথম প্রশ্ন করলো ক্লদিয়া। যে স্পোর্টিং সিপির সি. রোনালদো-২৮ জার্সি পরে এসেছিল। মেয়েটি প্রশ্ন করলো, ‘আপনি যখন শিশু ছিলেন, তখন কি ভাবতে পেরেছিলেন, একদিন বিশ্বসেরা হবেন? আপনি কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন যে, জীবনে সবকিছুই জিততে পারবেন একদিন?’

রোনালদো উত্তর দিলেন, ‘না, কখনোই না। আমি কখনোই চিন্তা করতে পারিনি এমন কিছু। সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল, একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার।’

এরপরের প্রশ্ন এলো গঞ্জালোর কাছ থেকে। যে কি না পরেছে রোনালদোর ম্যানইউর জার্সি। যার পেছনে লেখা রোনালদো-৭। তার প্রশ্ন, ‘আপনি কি ম্যানচেস্টার কিংবা মাদ্রিদকে অনেক বেশি মিস করেন?’

রোনালদোর উত্তর, ‘আমি দুই দলকেই খুব মিস করি। তবে আমার জীবনের অনেক পরিবর্তন এসেছে মাদ্রিদে এসে। আমার শিশুরা জন্ম নিয়েছে এখানে। এখানে আমি জীবন সঙ্গীকে পেয়েছি। সুতরাং, মাদ্রিদকেই আসলে সবচেয়ে বেশি মিস করি।’

তৃতীয় প্রশ্ন করলো ইসিয়ার। যে পরে এসেছিল রোনালদোর জাতীয় দল পর্তুগালের জার্সি। যার পেছনে রয়েছে আইকনিক নাম্বার, ৭। তার প্রশ্ন, ‘আপনার ক্যারিয়ারে কি সবচেয়ে সেরা সাফল্য ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ? এই ট্রফিটাই কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে?’

রোনালদোর জবাব, ‘প্রতিটি ট্রফিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সম্ভবত এটাই (ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ) সেরা। কারণ, এটা ছিল স্পেশাল। এটা অন্যগুলোর মত ছিল না। যখন আপনি নিজের দেশের জন্য কিছু জয় করবেন, এবং আপনি জানবেন এটা সব সময়ই খুবই কঠিন একটি ব্যাপার, তাহলে এটা অবশ্যই সেরা। আমার ক্যারিয়ারের জন্য এটাই ছিল সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

চার নম্বরে রোনালদোকে প্রশ্ন করলো জর্জ। সে পরেছিল রিয়াল মাদ্রিদে ব্যবহার করা জার্সি। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা না করে সে বললো, ‘আপনার রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যাওয়াটা আমাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত করেছে।’

রোনালদো বললেন, ‘আমাকেও (ব্যথিত করে)’। এরপর হাসতে হাসতে জর্জের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন রোনালদো।

শেষ প্রশ্নটি এলো মার্কোর কাছ থেকে। যে পরেছিল রোনালদোর জুভেন্টাসে খেলা ৭ নম্বর জার্সিটি। তার প্রশ্ন, ‘আপনি কি এই বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারবেন?’

রোনালদোর জবাব, ‘আমি জানি না। আমি শুধু চেষ্টা করতে পারি। সব সময়ের মতই। আশা করি জুভেন্টাস এটা জিততে পারবে।’



আমার বার্তা/৩০ জুলাই ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন