শিরোনাম :

  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে পারলে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে : রাষ্ট্রপতি যারা মানবতাবিরোধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদেরও বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
টেস্ট ক্রিকেটের প্রাণ বাঁচাতে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়নশিপ
স্পোর্টস ডেস্ক :
৩০ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৩০:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


টি-টোয়েন্টি, টি-টেনের দাপট আর একশ বলের ক্রিকেট দ্য হান্ড্রেডের পরিকল্পনায় জনপ্রিয়তা হারাতে বসেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাচীন ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেট। অভিজাত এ ফরম্যাটের প্রতি দর্শক থেকে খেলোয়াড়দেরও অনীহা পরিলক্ষিত হয় প্রকটভাবে। সাম্প্রতিক সময়ের অনেক তারকা খেলোয়াড়ই টেস্ট থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে।

যা ভাবিয়ে তোলে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে। যে কারণে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়াতে এবং সকলের মাঝে অভিজাত এ ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে 'বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ' শুরু করতে যাচ্ছে আইসিসি।

দীর্ঘ ২১ মাসের এ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা হবে আগামী ১ আগস্ট থেকে। ক্রিকেটের জন্মভূমি খ্যাত ইংল্যান্ডেই এবার শুরু হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রাও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজ সিরিজ দিয়েই মাঠে গড়াবে এ আসর। যা চলবে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ ২১ মাসে প্রথম সারির ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ নিজেদের মধ্যে খেলবে ২৭টি টেস্ট সিরিজ।

বর্তমানে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ১২ হলেও, চ্যাম্পিয়নশিপে থাকবে ৯টি দেশই। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া সবশেষ দুই দেশ আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডসহ জিম্বাবুয়েকেও থাকতে হচ্ছে এ আয়োজনের বাইরে। বাকি ৯ দেশ- বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণেই হবে এ চ্যাম্পিয়নশিপ।

পুরো ২৭ সিরিজ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ২ দলকে নিয়ে হবে পাঁচদিনের ফাইনাল ম্যাচ। সে ম্যাচের জয়ী দলের হাতেই তুলে দেয়া হবে শিরোপা। ফাইনাল ম্যাচ ড্র বা টাই হলে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে দুই দলকেই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো দেশে ও বাইরে ৩টি করে মোট ৬টি টেস্ট সিরিজ খেলবে। প্রতি সিরিজের জন্য ১২০ করে সর্বমোট ৭২০ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকবে প্রতি দলের সামনে। সিরিজগুলো যে কয় ম্যাচেরই হোক, পুরো সিরিজে এক দল সর্বোচ্চ ১২০ পয়েন্টই পাবে।

উদাহরণস্বরুপ, পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজের প্রতি ম্যাচের জন্য ২৪ পয়েন্ট করে পাবে জয়ী দল। আবার সিরিজ যদি হয় দুই ম্যাচের তাহলে প্রতি ম্যাচের জন্য থাকবে ৬০ পয়েন্ট। এভাবে সিরিজে ম্যাচের সংখ্যানুযায়ী প্রতি ম্যাচের পয়েন্ট হিসেব করা হবে। ম্যাচ ড্র হলে থাকবে ২০ পয়েন্ট এবং টাই ম্যাচের জন্য ৩০ পয়েন্ট।

বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৬ সিরিজের মধ্যে ৪টিই হবে ২ ম্যাচের, বাকি ২ সিরিজ হবে ৩ ম্যাচের। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা।

চলতি বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। আগামী বছর জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজের পর, ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। একই বছর জুলাইয়ে অ্যাওয়ে সিরিজ শেষে আগস্টে নিউজিল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে টাইগাররা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে শেষ হবে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপপর্ব।

তবে চ্যাম্পিয়নশিপের ছয় সিরিজের বাইরে ফিউচার ট্যুর প্ল্যান (এফটিপি) মোতাবেক নিজেদের মধ্যে সিরিজ খেলতে টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দেশ।



আমার বার্তা/৩০ জুলাই ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন