বছরজুড়ে বহুমুখী কার্যক্রমে ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  ইবি প্রতিনিধি:

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসগুলোতে আমূল পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা ফিরে আসে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০২৫ সালজুড়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থে নানামুখী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিল ইবি শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করে সংগঠনটি।

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নতুন রূপে আবির্ভূত হয়, যেখানে আগে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ধারার ছাত্রসংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০২৫ সালে সংগঠনটির কার্যক্রমের বড় অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রয়োজনভিত্তিক দাবি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্নার স্থাপন, আবাসিক হলসমূহে পানির ফিল্টার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড চালু, ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্পডেস্ক পরিচালনা, বাৎসরিক ছুটি কমানো, সেশনজট নিরসনের উদ্যোগ, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া অর্ধেক করা এবং ঘণ্টাপ্রতি বাস সার্ভিস চালুর দাবি তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবির বাস্তবায়নে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিক স্মারকলিপি প্রদান করে, যার মধ্যে ছিল ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ছাড়া সকল কোটা বাতিল, জুলাই অভ্যুত্থানের বিপক্ষে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সেশনজট নিরসনে অনুষদভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে স্টেডিয়াম ও আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ স্থাপনের দাবি।

জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতেও সংগঠনটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, ফেলানী দিবস উপলক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ‘জুলাইয়ের প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ, ‘বাংলাদেশির পরম্পরা: বায়ান্ন থেকে চব্বিশ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, একুশ আমার অস্তিত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ, জুলাই চব্বিশের স্মৃতিচারণমূলক আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক অনলাইন ভিডিও প্রতিযোগিতা, শ্রমজীবী ও ভ্যানচালকদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল এবং ‘সহস্র কণ্ঠে দেশের গান’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এছাড়া সিলেটের এমসি কলেজে শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদ, কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অনশন, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, শহীদ মিনারে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয় সংগঠনটি।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও মানসিক বিকাশে প্রায় আট বছর পর শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, পাশাপাশি বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, রমজান মাসে ক্যাম্পাসের ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি।

বছরজুড়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতেও কর্মসূচি পালন করা হয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত, গায়েবি জানাজা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিত্বের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বছরজুড়ে কার্যক্রম প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, নতুন বছরকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যেসব জায়গায় ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে সেখানে সক্রিয়ভাবে কাজ করা হবে, পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলবে, এ লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, সকল ছাত্র সংগঠনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।


আমার বার্তা/সাব্বির আহমেদ/এমই