সাংবাদিক দুলালের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকদের চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশ ও এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক দুলালকে মব সৃষ্টি করে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক দুলালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ ও মিরপুর-১৪ এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কবলে রয়েছে। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বরাত দিয়ে মানববন্ধনে বলা হয়, ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান উচ্ছেদ, দোকানের দখল পরিবর্তন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিরপুর-১০, ফায়ার সার্ভিস, আইডিয়াল স্কুল, হোপ ও ওয়াসা এলাকার বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত ও সড়কের অংশবিশেষ দখল করে শত শত দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আইডিয়াল স্কুল ও হোপ এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, কিছু এলাকায় প্রতিটি দোকান থেকে মাসিক কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও দোকানের অবস্থান বা দখল দেওয়ার নামে জামানত ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার দোকান অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার পর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত ফুটপাতকেন্দ্রিক অর্থ আদায়ের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জড়িত। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ নতুন পরিচয়ে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফুটপাত থেকে আদায় করা অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে থাকে। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এসব অর্থের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মানববন্ধনে উপস্থাপন করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি জায়গা ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, ভয়ভীতি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় সাংবাদিক দুলালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রকাশ বা তথ্য সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানি বা হামলার শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।