চেতনার মশাল সাহিত্যের কাগজ 'শামাদান'

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  মীর আশরাফ

আবদুল্লাহ আফনান, আফফান লাবীব ও মাহমুদুল হাসান সম্পাদিত শামাদান। যাকে আমাদের সাহিত্যচর্চা বলে অভিহিত করা হয়েছে। স্লোগান ‌'চেতনার মশাল আলোর দীপাধার'। পত্রিকাটি এই প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করেছে সেপ্টেম্বর ২০২৬। এ বিশেষ সংখ্যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন মুফতি জহির উদ্দিন। পত্রিকাটির প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠাসজ্জা করেছেন কাউসার আহমাদ। পরিবেশক রাখা হয়েছে পুনরায় প্রকাশকে। শুভেচ্ছা মূল্য : ১২০ টাকা। 

শামাদানের প্রথম বিশেষ সংখ্যা ‘আমাদের সাহিত্যচর্চা’। গদ্য, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও রম্যসহ বিশটি লেখায় সজ্জিত এই সংখ্যা কওমি তরুণ ও ইসলামকে উপজীব্য করে সাহিত্যচর্চায় আগ্রহীদের জন্য পাথেয়। স্বীয় আদর্শকে সমুন্নত রেখে সাহিত্যচর্চার গাইডলাইন। এতে ইসলামি সাহিত্যের পরিচয়, পরিধি ও ঐতিহ্য, মূলধারার সঙ্গে সংযোগ-সংকট, বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, আত্মপর্যালোচনাসহ নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। পাঠক-লেখক উভয়ের জন্যই রয়েছে চিন্তার নানামুখী খোরাক।

এ সংখ্যায় লিখেছেন, মাওলানা অলি উল্লাহ,  মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, রেদওয়ানুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইয়াছিন শরীফী, সাইফ সিরাজ, মুহাম্মদ সাদ সাকী, আরিফ খান সাদ, সালমান আদীব, আবদুল্লাহ আফনান, মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ, আহমাদ সাব্বির, আমজাদ ইউনুস, আমীরুল ইসলাম ফুআদ, মুহাম্মদ উমারা হাবীব, মাহমুদুল হাসান, আবু নাঈম ফয়জুল্লাহ, ওমর আল ফারুক। 

পত্রিকাটির গঠনশৈলি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। হাতে নেওয়ার এ দশকের সেরা একটি সাহিত্যের কাজ। তরুণদের নেতৃত্ব যে আরও শক্তিশালী হচ্ছে তা এ পত্রিকাটিতে চোখ বুলালে সহজেই বোঝা যায়। 

পত্রিকাটি হাতে নিয়ে চমৎকার বলেছেন সময়ের কথাসাহিত্যিক ও সীরাত গবেষক মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।

তিনি বলেন, শামাদান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ হলো প্রদীপদানি। এটা হলো আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সূত্র। আরবী, ফার্সি, উর্দু— এগুলো হলো আমাদের শিকড়ের চিন্তাচর্চার একেকটা ইট। আমি প্রথমেই বলব, এই নামের ঐতিহ্যটা যেন আমরা ধারণ করি।  

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন বলেন, আমি মনে করি, এই সময়ের তরুণরা প্রশ্ন হিসেবে এটাকে উত্থাপন করবে এবং শক্তির সঙ্গেই উত্থাপন করবে। যারা করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। আমাদের মানে মুসলিমদের।  আর যারা এই বোধকে লালন করবে না, তারা অন্যদের হয়ে কাজ করবে। পরিচয় ইনিয়ে বিনিয়ে যেটাই দিক না কেন, তারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আমাদের লোক হবে না। 

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন বলেন, ইসলামকে যদি আমরা চূড়ান্ত, পূর্ণাঙ্গ, বিজয়ী দীন হিসেবে মানি। এই জায়গায় যদি সংশয় না থাকে, তাহলে ইসলাম সর্বপ্রথম যে শক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে সেটা হলো ভাষা। কাজেই ইসলামকে উপজীব্য করে যে লেখা, সেটা তো সাহিত্য না— এই কথাটা যে বলবে এবং তার সঙ্গে গিয়ে ভাব জমিয়ে যে দাঁড়াবে সে আমাদের না।