ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলটির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব কারা পেতে পারেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।
এই আলোচনায় সভাপতি পদে উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কফিল উদ্দিন আহমেদের নাম। ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত কফিল উদ্দিন আহমেদ রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক উদ্যোগের কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীদের একটি অংশ।
তবে নতুন কমিটিতে কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা
১৯৬৯ সালের ১ এপ্রিল ঢাকা জেলার উত্তরা এলাকার ফায়দাবাদে জন্ম এম. কফিল উদ্দিন আহমেদের। তার বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর রশিদ মাতব্বর।
শিক্ষাজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন কফিল উদ্দিন আহমেদ। টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় কলেজ পর্যায়ের ছাত্রনেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই প্রতিষ্ঠানে জিএস ও ভিপির দায়িত্বেও ছিলেন বলে তার পক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে।
রাজনীতির ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং বৃহত্তর উত্তরা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় সম্পৃক্ততা
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ও দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রয়েছেন কফিল উদ্দিন আহমেদ। ২০০২ সালে তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন রশিদ গ্রুপের অধীনে একাধিক শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জে.এফ.কে ফ্যাশন লিমিটেড, রশিদ অটো ব্রিকস লিমিটেড এবং এফ কে গ্রীন ফ্যাশন লিমিটেডের নাম উল্লেখযোগ্য।
তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততা
ব্যবসা ও রাজনীতির বাইরে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ। তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত রশিদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়নের অংশ হিসেবে ফায়দাবাদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথাও তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
করোনাকালেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে তার পক্ষ। ওই সময়ে খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক, পিপিই ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে মামলা-হয়রানির দাবি
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিও করেছেন এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
তার দাবি, রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ১৫৬টি মামলায় আসামি হয়েছেন তিনি। এসব মামলার কারণে দীর্ঘ সময় নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া দুটি মামলায় যথাক্রমে ১০ বছর ও ৭ বছরের সাজা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
তবে এসব মামলার সংখ্যা, মামলার ধরন, আদালতের রায় এবং সাজা সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হলে দাবিগুলোর তথ্যগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হবে।
সভাপতি পদে প্রত্যাশা
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দলের কর্মকাণ্ডে নিজের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হননি। দলীয় রাজনীতির জন্য নিজের জীবন, যৌবন, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিল্প ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার চেষ্টা করছেন। তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় আসতে পারে।
এই বিবেচনায় এম. কফিল উদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনায় থাকলেও তাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই বর্তমানে এম. কফিল উদ্দিন আহমেদের সভাপতি হওয়ার বিষয়টি সম্ভাব্যতা ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
