সেই ভারতীয় নাগরিকের আইডি বাতিলের সুপারিশ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জমির ভাগ নিতে বাংলাদেশি এনআইডি বানানো আলোচিত ভারতীয় নাগরিকের আইডি বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গত ১৫ জানুয়ারি জন্ম সনদ বাতিলের জন্য স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক বরাবর পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ও জিউপাড়া ইউনিয়ন প্রশাসক আবেদন করেন।

এতে বলা হয়েছে, ‘রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ৬ নম্বর জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি জন্ম সনদ লিপিবদ্ধ হয়েছে ব্যক্তির নাম মো. আকাশ প্রামানিক, পিতা: মো. আজিত আলী, মাতা: মোছা. আসমা বেগম, গ্রাম: ধোপাপাড়া, পোস্ট: ধোপাপাড়া, উপজেলা: পুঠিয়া, জেলা: রাজশাহী। জন্ম সনদ নম্বর: ১৯৯৮৮১১... যা ২০২০ সালের ২৩ মার্চ নিবন্ধন হয়েছে। উক্ত মো. আকাশ প্রামানিক প্রকৃত পক্ষে ভারতীয় নাগরিক উক্ত ব্যক্তি বর্তমান ঠিকানায় বসবাসরত অবস্থায় উক্ত পরিবারের সন্তান হিসাবে পরিচয় দিয়ে উক্ত নামে জন্ম সনদ সম্পূর্ণ করিয়া পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি জাতীয় পরিচয় পত্র নিজ নামে প্রস্তুত করেন। অতএব উল্লিখিত জন্ম সনদ বাতিল কারার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অত্র প্রতিবেদন প্রেরণ করা হইল।’

জানা যায়, সাহের আলী সরদারের (৩৯) জন্ম ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বনতাই ডাঙ্গাপাড়া সানি মন্দির এলাকায়। তার বাবার নাম সোহরব সরদার। ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৩৩৯৯......। সেদেশের জাতীয়পত্র অনুযায়ী সাহের আলীর জন্মতারিখ ১৯৮৬ সালের পহেলা জানুয়ারি। কিন্তু ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও গোপনে নাম ও ঠিকানা পাল্টে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন সাহের আলী সরদার। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম মো. আকাশ প্রামানিক। এ দেশে তার জন্মনিবন্ধন সনদ নম্বর ১৯৯৮৮১....., যেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ১৫ জানুয়ারি ১৯৯০। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রাম।

তবে অভিযোগ উঠেছে, এই ভারতীয় নাগরিক কয়েক বছর আগে আত্মীয়ের বাড়ি এসে আর ফিরে যাননি। পরে তথ্য গোপন করে বাংলাদেশি নাগরিক সেজেছেন। বিয়েও করেছে ধোপাপাড়ায়। বর্তমানে আকাশ প্রামানিক হিসেবে তিনি কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করছেন। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হয়। তবে তার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি জানিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রে মা হিসেবে দেখানো আসমা বেগম। ভারতীয় নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি কার্ড করেছেন তা তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

জানা গেছে, সাহের আলী নাম পাল্টে আকাশ প্রামানিক সেজে বাংলাদেশের জন্মনিবন্ধন পেয়েছেন ২০২০ সালের ২৩ মার্চ। আর তিনি এনআইডি পান ২০২২ সালের ২৮ জুলাই। ২০২৪ সালের ১২ জুলাই পুঠিয়ার ধোপাপাড়া গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। সাহের আলী বর্তমানে আকাশ প্রামানিক সেজে কক্সবাজারের রয়েল সি বিচ নামে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করছেন। এরপর তিনি তার মায়ের কাছে নিজের ছেলে বলে জমি দাবি করেন। এ নিয়ে আসমা বেগম অভিযোগ করেন। এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন এবং এনআইডি কার্ড করেছেন তা তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। পরে সত্যতা পাওয়া যায় আকাশ ভারতীয় নাগরিক।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ও জিউপাড়া ইউনিয়ন প্রশাসক স্মৃতি রানী সরকার বলেন, আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এজন্য তার বাংলাদেশি নগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। আশা করি সেটি বাতিল হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, আমরা এটি পাঠিয়ে দিয়েছি। বাতিলের কাজ শুরুর হয়ে গেছে।

আমার বার্তা/এল/এমই