সুন্দরবনে অভয়ারণ্যে মাছ শিকার, ১৪ জেলে আটক

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ১৪ জন জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দুইটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, বড় আকারের দুইটি শাপলা প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং জাল-সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের নীলকমল অভয়ারণ্য কেন্দ্র-এর বঙ্গবন্ধুর চর সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বনরক্ষী বাহিনীর একটি টিম নৌপথে টহল জোরদার করে সন্দেহভাজন দুইটি ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ১৪ জন জেলেকে আটক করা হয়।

অভিযানকালে জব্দকৃত ট্রলার দুটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জামাদি জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বন কর্মকর্তারা জানান, নীলকমল অভয়ারণ্য এলাকা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে সুরক্ষিত। এখানে সব ধরনের বাণিজ্যিক মাছ শিকার, গাছ কাটা বা বন্যপ্রাণী বিরক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নীলকমল অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিলিমেশ বৈরাগী জানান, আটক জেলে এবং জব্দকৃত আলামত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের সংরক্ষিত অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকার রোধে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ও নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে এসব এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। কারণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মাছ আহরণ করলে প্রাকৃতিক খাদ্যচক্র ব্যাহত হয় এবং বনের সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। তবে তারা বলছেন, টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল জেলে ও বনসংলগ্ন বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংরক্ষিত এলাকার আইন মেনে চলতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহযোগিতা করতে। বন বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।