একসঙ্গে মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত স্বামী-স্ত্রী
দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনা
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী জহুরা অন্তি (২৭)। কাজী সাঈফ আহমেদ ও জহুরার বছর খানেক আগে বিয়ে হয়।
জানা গেছে, গতকাল ঈদের ছুটি শেষে কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য ও জহুরা একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় ফিরছিলেন। বিকেলের দিকে বড়পুল থেকে তারা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৭ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে টেনে ওপরে তোলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের মধ্যে থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্যের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূ বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা বাকরুদ্ধ। কারণ আমি এদেরকে সন্তানের মতো করে মানুষ করেছি। সৌম্যকে ছোট অবস্থা থেকেই আমি লালনপালন করেছি। আমি তাকে লেখাপড়া করিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি, ওকে চাকরি দিয়েছি, বিয়ে দিয়েছি। সব আমার হাত ধরেই হয়েছে। গত এক বছর আগে ওদের বিয়ে হয়।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজকে আমার এই দুই সন্তানের লাশ সামনে নিয়ে জানাজা পড়তে হচ্ছে। তারপরও আমি বলছি চলার পথে আমার ভাতিজা ও তার স্ত্রী আপনাদের কারোর সাথে কোনো বেয়াদবি বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকলে আমি আল্লাহর ওয়াস্তে ওদের হয়ে আমি মাপ চাই। আপনারা সবাই আমার ভাতিজা সৌম্য ও তার স্ত্রী জহুরার জন্য দোয়া করবেন।
দৌলতদিয়া ঘাটের এই বাস দুর্ঘটনায় গতকাল ২৩ জনের মরদেহ ও আজকে তিনজনের মরদেহসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আমার বার্তা/জেএইচ
