নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বেসরকারি আহমেদ প্রাইভেট  হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরে পালিয়ে যায়, আহমেদ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, মৃত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (১৮)। তিনি নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা (স্বামীর বাড়ি)। তার স্বামী শফিকুল। পিতা মিজান মিয়া ও মাতা রেহেনা আক্তার।

স্থানীয় সূত্রে ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রসব ব্যথা ওঠায় রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বজনদের স্পষ্টভাবে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করে। রোগীর মা রেহেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে গাড়িতে তোলার সময়ই সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি তার কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝতে পারি, অপারেশনের পরই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

স্বজনদের আরও দাবি, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়ার পর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ফলে তারা কাউকে খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।