চট্টগ্রামে ফের সীমানা নিয়ে কেইপিজেড ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমির সীমানা দখলকে কেন্দ্র করে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবারও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণবন্দর খলিফাপাড়া এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের মালিকানাধীন জমিতে স্থাপন করা সীমানা পিলার, কাঁটাতারের বেড়া ও সাইনবোর্ড ভেঙে দিয়েছে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। তবে, কেইপিজেড এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও কেইপিজেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। দুপুরের দিকে স্থানীয়রা তাদের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করলে কেইপিজেড বাঁধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাশিম চৌধুরী দাবি করেন, বৈরাগ মৌজার ১.৬০ শতক জমি তিনি খরিদসূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি জমির সীমানা নির্ধারণ করে পিলার ও বেড়া স্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ, সোমবার সকালে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক সেসব ভেঙে দেয় এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তিনি আরও জানান, আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনও তার পক্ষেই রয়েছে।

প্রসঙ্গ, ১৯৯৬ সালে কোরিয়ান কোম্পানি ইয়াংওয়ান করপোরেশন আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৪৯২ একর জমির ওপর ‘কেইপিজেড’ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর থেকেই জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও পুরোনো কবরস্থান নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৭ মে একই ধরনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেইপিজেডের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার শিল্পায়ণের জন্য কেইপিজেডকে জায়গা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি দাগের জায়গা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে ঝামেলা চলছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল. এ) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা আমাকে জানিয়েছেন। আমি একটি যৌক্তিক সমাধানের কথা বলেছি। এ বিষয়ে আইনগত কোনো সহযোগিতা লাগলে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।’


আমার বার্তা/এমই