গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিতাসের অভিযান

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ২১:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

হোতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের সন্ধান পেয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে হোতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের সন্ধান পেয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। অভিযানে কারখানাটির বৈধ সংযোগের আড়ালে গোপনে স্থাপিত একটি বাইপাস লাইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানাটিতে কিলিং ক্যাপিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়। তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ শাহীদুর রহমান জানান, সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং তিতাসের একজন বৈধ গ্রাহক হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবহির্ভূত একটি গোপন সংযোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ সংযোগটি শনাক্ত করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানাটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপের মাধ্যমে মিটারবহির্ভূত আন্তঃসংযোগ স্থাপন করে পুরো কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল। এর ফলে প্রতি মাসে সরকার প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে গত কয়েক বছরে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ কোটি কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের অপব্যবহার শুধু সরকারি রাজস্ব ক্ষতিই নয়, বরং বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার, মিটার টেম্পারিং ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, শিল্পাঞ্চলে বহুল আলোচিত এ অভিযানের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ শাহীদুর রহমান, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আলী নওরোজ রাহাত, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার, মনি শংকর রায়, আতাউর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (জোবিও শ্রীপুর) শাকিল আহমেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক (জোবিও শ্রীপুর) মোয়াজ হোসেনসহ তিতাস গ্যাসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।


আমার বার্তা/এমই