বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন বন্দর আধুনিকায়নের বিকল্প নেই

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

উৎপাদন ও পরিবহনে বাড়তি ব্যয় নিয়ে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা কঠিন। এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে তাই বন্দর আধুনিকায়নের বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের লাভজনক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করেন তারা। পাশাপাশি বন্দর চালানোর সক্ষমতা অর্জন নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের।

দেশের মোট আমদানি-রফতানির ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয় চট্রগ্রাম বন্দরে। বিশ্বের ১০০টি বন্দরের কাতারে দাঁড় করালে দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দরটির অবস্থান হয় ৬৮। এর কারণও স্পষ্ট। পাশের দেশ শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে যখন পণ্য খালাসে একটি জাহাজ সময় নেয় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, তখন চট্টগ্রাম বন্দরে সময় লাগে গড়ে ১০ দিন।
 
এমন বাস্তবতায় বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে চট্টগ্রামের লালদিয়া ও কেরানিগঞ্জের পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দিয়েছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ৩০ বছর পর্যন্ত লালদিয়া টার্মিনাল পরিচালনা করবে ডেনমার্কের কোম্পানি এপি মোলার। যেখানে বিনিয়োগ হবে ৫৫ কোটি ডলার। আর এটি চালু হলে বাড়বে বছরে ৮ লাখ কন্টেইনার ওঠানামার সুযোগ।
 
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কনটেইনার ট্রান্সজিশনটা খুব বাড়বে। এতে আমরা তাড়াতাড়ি পণ্য খালাস করতে পারবো। আমাদের আশপাশের দেশগুলো, যেগুলোর হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি কম, তারা আমাদের বন্দরটা ব্যবহার করবে।’  
 
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হতে যাচ্ছে। এখন আমাদের ব্যবসায়ের খরচ কমাতে হবে। সময় বাঁচাতে হবে। ৯৯ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ডিল করি, এর বাইরে আমাদের অন্যন্য অবকাঠামো এবং পোর্ট সুবিধা দাঁড় করাতে হবে।

বুড়িগঙ্গার তীরে ২০১৪ সালে পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহারে এখনও আগ্রহী হতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। ১২ বছরে সরকার লোকসান গুনেছে ১৫৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ এই নৌ বন্দরটিতে গতি ফেরাতে সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি মেডলগকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
 
তবে বন্দর চুক্তির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আয় নিশ্চিতে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বন্দর চালানোর দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।
 
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন আমাদের যে ধরনের সময় এবং লজিস্টিক খরচ--তাতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বে প্রতিযোগিতায় যেতে পারবে না। আমদানির ক্ষেত্রেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাকে আমদানিও সাশ্রয়ীভাবে করতে হবে। তাই এগুলো স্পষ্টভাবে গোপনীয়তা রক্ষা না করে নিয়ম অনুযায়ী করতে হবে। সেইসঙ্গে এগুলো যেন পরবর্তীকালে সক্ষমতার সঙ্গে চালাতে পারি, সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য জাহাজিকরণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় নষ্ট হয় কাস্টমস জটিলতায়। এতে বাড়ে ব্যবসার খরচ। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তাই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তাদের।
 
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘ধরলাম, জাহাজ বন্দরে ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনটেইনার অটোমেটিক নামানো হবে, ৬ ঘণ্টার মধ্যে খালাস হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তীকালের প্রসেসিং যদি পেপার নির্ভর হয়, তাহলে তো আমার খুব একটা লাভবান হলাম না। আর এ কাজটা করতে গিয়ে যদি আমার খরচ বাড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে তো লাভ হচ্ছে না।’  
 
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটিও বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের শেষ পর্যায়ে সরকার। যদিও আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ আছে কার্যক্রম।

আমার বার্তা/এল/এমই