কন্ট্রাক্ট আমদানিতে ভরসা, অর্থপাচার ঠেকাতে সতর্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

এলসির বাইরে ৭৬৪ কোটি মার্কিন ডলারের ভোগ্যপণ্য, শিল্প যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, কন্ট্রাক্ট সেলে আমদানির পরিমাণ বাড়ালে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে আসতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশে ‘লিড টাইম’ মেনে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাও সহজ হবে। কন্ট্রাক্ট সেল বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার রোধে কড়াকড়ি বজায় রাখছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৮.৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ১.৭৫ শতাংশই চালের কারণে। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ঘাটতি পূরণের ব্যবধানে ওই সময় চালের দাম ১০.৮৪ শতাংশ বেড়ে যায়। ছয় মাস পর, রমজানের আগেই একইভাবে বন্দরে পণ্য খালাসের ধীরগতির সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম এক সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে যায়।
 
ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি ফিনিশিং পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে দেশের উৎপাদন ও শিল্পখাতের অনেকাংশই আমদানি নির্ভর। তাই ব্যবসায়ীরা লিড টাইম মেনে পণ্য রফতানি ও আমদানিতে এলসি জটিলতা এড়িয়ে কন্ট্রাক্টের পক্ষে। বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ‘এলসি পুরোনো মান্ধাতা আমলের সিস্টেম; এখন আমাদের মডার্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যেখানে ঝামেলা কম এবং সুবিধা বেশি।’
 
বসুমতি গ্রুপের চেয়ারম্যান জেড এম গোলাম নবী বলেন, এলসি খুলতে গেলে কোল্যাটারাল সিকিউরিটির কথা বলে ব্যাংকগুলো নানা শঙ্কার কথা তোলে। টাকা পরিশোধ না করলে বা পণ্য বিক্রি করে কেউ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে কী হবে-এমন অজুহাত দেখিয়ে মূলত ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে এলসির মাধ্যমে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে মাত্র ৭.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভোগ্যপণ্য, শিল্প যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে, যা মাত্র সাড়ে ১২ শতাংশ।
 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কন্ট্রাক্ট সেলে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। বসুমতি গ্রুপের চেয়ারম্যান জেড এম গোলাম নবী বলেন, এই নিয়মে আমদানি হলে বর্তমান বাজার ব্যবস্থার চেয়ে অন্তত ১০-১৫ শতাংশ কম দামে পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
 
শিল্পখাতে গতি আনতে এবং ভোগ্যপণ্যের বাজারে নৈরাজ্য বন্ধ করতে কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে আমদানি-রফতানির পক্ষে মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের ওপর নজরদারিতে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কন্ট্রাক্টভিত্তিক বৈদেশিক লেনদেনে অনাগ্রহী; এমন নয়। তবে যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রেই মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি যেন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়, সে বিষয়টিতেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক, তবে এই সুযোগে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অর্থপাচারে জড়াতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
 
ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুসম্পর্ক ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে শর্ত শিথিল করে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে। এতে পুরো অর্থ নগদায়ন করে আমদানির বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের গ্রহণযোগ্য সার্বজনীন আদর্শ রূপ বজায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমার বার্তা/এল/এমই