আহসান মনসুর ও দুবাইয়ের ফ্ল্যাট: মেয়ের সম্পদ নাকি গোপন বিনিয়োগ?

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

দুবাইয়ে ৪৫ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে অভিযোগের মুখে পড়েছেন সদ্য সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরের নামে ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি কোনোদিন বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কোনো টাকা পাঠাননি। তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আয় ও ব্যয়ের হিসাব সবসময় স্বচ্ছ ছিল।দুবাইয়ের ওই সম্পত্তি তার কন্যা মেহরিন সারার। ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ২০২৩ সালে।

ফ্ল্যাটটির দলিলে অভিভাবক হিসেবে তার নাম থাকলেও, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটি কেবল একটি আইনগত আনুষ্ঠানিকতা ছিল, মালিকানা নয়। মূলত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘদিনের স্বচ্ছ আয় এবং তার মেয়ের নিজস্ব অর্থায়নেই এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে। দলিল অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায়। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুরের নাম রয়েছে।

সেখানে আহসান এইচ মনসুরকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মালিক না হয়ে কেবল অভিভাবক হলে তার নাম অভিভাবক হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। আর শুধু নাম উল্লেখ থাকলে তা আইনগতভাবে সরাসরি মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আহসান এইচ মনসুরের নাম অভিভাবক হিসেবে এসেছে তা দলিলগতভাবে সঠিক নয়।

জানা যায়, ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশনের দিন আহসান এইচ মনসুর শারীরিকভাবে দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান। ২২ ডিসেম্বর তিনি ইথিওপিয়া যান। একই দিন তিনি আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাই যান। ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এই সময়সূচি অনুযায়ী তিনি ২৪ ডিসেম্বর সারা দিন দুবাইতে অবস্থান করেন। আর ওই দিনই ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।

দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের (DLD) কড়া নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্পত্তির দলিলের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি এবং স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক; অন্যথায় 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' বা বিশেষ ডিজিটাল সার্ভিসের সাহায্য নিতে হয়। তবে আলোচিত ওই ফ্ল্যাটের দলিলে কোনো প্রতিনিধির নাম উল্লেখ না থেকে বরং সরাসরি স্বাক্ষর থাকায়, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সরাসরি শারীরিক উপস্থিতির দিকেই জোরালো ইঙ্গিত দেয়।