দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রে বাজার বাড়ানো হবে: রাশেদ তিতুমীর

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৭:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বুধবার অর্থমন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যই বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নেই তড়িঘড়ি করে মার্কিন বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ চুক্তি সম্পর্ক উন্নয়নের চুক্তি।

বুধবার (০৬ মে) অর্থমন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব বলেন।
 
তিনি বলেন, চুক্তিতে কতগুলো বিষয় থাকে। এতে আমারা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি দেখি। আমরা চাই সম্পর্ক উন্নয়ন আরও উচ্চতায় যাক।

তিনি আরও বলেন, যে যেকোনো রাষ্ট্রকে তার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে বা দ্বিপাক্ষিকভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আন্তর্জাতিক চর্চা (নর্মস) মেনে চলতে হয়।

রাশেদ তিতুমীর, আমরা যে বিষয়ে জোর দিচ্ছি, সেটি হলো চুক্তির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা এবং এর মেকানিজম বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। আমরা চাই আরও পণ্যের বাজার হোক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একইরকম সম্পর্ক ধরে রাখার কথাও বলেন।

উপদেষ্টা বলেন,আমাদের এশিয়া অঞ্চলের জাপান হোক, চীন হোক, কোরিয়া হোক, সবার সঙ্গে আমার বৈঠক হচ্ছে। প্রতিদিনই আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে আমার সাথে, আবার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের, এমনও লক্ষ্য করেছেন একই দিনে, আমাদের পার্শ্ববর্তী এবং এশিয়ার একটি দেশের সাথে সভা হয়েছে। জাপানের সাথে সভা হচ্ছে। তার মানে হচ্ছে যে,  আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন দেশে সফর করছি এবং সেখানে আমাদের একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং সেখানে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেই বাজারে আমাদের যাতে উপস্থিতি আরও বাড়ে। 

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো প্রোডাক্টের কথা বলেছি যেমন স্পেসিফিক ওষুধের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্র বৈজ্ঞানিক কতগুলো বিষয়ে এগিয়ে আছে। আমি স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহায়তা করেছে, সেটা শিক্ষা ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে। আমরা চাই এই ক্ষেত্রগুলো আরও বাড়ুক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পাল্টা বাণিজ্য চুক্তি বা এআরটি’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সমালোচনার মধ্যে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিঞ্চ। তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করে। চুক্তিতে ১৩১টি শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশকে মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছয়টি শর্ত মানতে হবে বলে খবর এসেছে।

ট্রাম্পের বাড়তি সম্পূরক শুল্ক এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সোমবার এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের এ সফরের আগের দিন জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।


আমার বার্তা/এমই