কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও জনকল্যাণে জোর বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৩:১১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বেশ কিছু জনমুখী উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট প্রস্তাবে। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের বাজেটে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, রপ্তানি খাত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে বিভিন্ন প্রণোদনা ও কর-সুবিধার ঘোষণা এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তার প্রথম বাজেট এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঘাটতি অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত উৎস, বিশেষ করে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি অনুদান হিসেবে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বেশ খানিকটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা বলেছেন। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় সংসদে উপস্থিত থেকে বাজেট বক্তব্য শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন যাত্রার বাজেট
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছিল। ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদের বড় অংশ মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়।
তিনি বলেন, ‘নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে দেশ। উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে কেন্দ্র করেই এবারের বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
তার ভাষায়, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্থানীয় শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এবং নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একদিকে কর-ছাড়, অন্যদিকে ভর্তুকি ও প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে জোর
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি সেবা সহজ ও সমন্বিত করতে অনলাইনভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। শিল্পকারখানার স্থান নির্বাচন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র, ভূমি ও নকশা অনুমোদনের মতো সেবাগুলোকে সমন্বিত ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
প্রতিটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র এবং নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং সহজ প্রতিপালন কাঠামো চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনতে লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন ও অন্যান্য শর্ত সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে সহায়তার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করছে সরকার।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বিকাশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারবে।
রপ্তানি খাতে সুবিধা
রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। রপ্তানি প্রণোদনার অর্থের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শতভাগ রপ্তানিমুখী লেদারগুডস, ফুটওয়্যার, টাওয়েল, লিনেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর করার প্রস্তাব এসেছে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কাঁচামাল মজুদের সীমা তুলে দেওয়া, ইউটিলাইজেশন পারমিশন গ্রহণের সময়সীমা সহজ করা এবং নতুন ১০টি রপ্তানিমুখী খাতে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে নতুন বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা চালুর কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
এবারও শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ২৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই যোগাযোগ, জ্বালানি এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার সংস্কার
অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং পুঁজিবাজার সংস্কারকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ভ্যাট আদায়ের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার, বন্ড মার্কেট শক্তিশালীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারি ঋণের চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বাজেটে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হবে।
ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি করদাতাদের জন্য অটোমেশন ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নবম বেতন কাঠামোর ঘোষণা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে।
জলবায়ু ও জ্বালানি খাতে গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে অতীতের অনিয়ম ও ক্যাপাসিটি চার্জ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক শ্রমবাজার
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান আড়াই শতাংশ প্রণোদনা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমালোচনাও রয়েছে
তবে বাজেট নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মনে করেন, এ বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে এবং ঘাটতি অর্থায়নে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে এ সুবিধা গ্রহণ করলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না বলে অর্থবিলে বিধান রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় কর-ছাড়ের প্রস্তাব সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক। তবে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
তার মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নয়, রাজস্ব প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনমুখী বার্তা
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা রয়েছে।
একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেন সহজীকরণ, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগও বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকলেও উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। - সূত্র : বাংলানিউজ২৪
